পাব। সে হিসাবে ডোবার এবং ক্যালে পর্য্যন্ত যাওয়াটা একরকম ভালই। প্যারিস নগরটা দেখতে প্রভু নিশ্চয়ই একবার যাবেন। প্যারিসে গেলেই দু’দিন কি আর সেখানে থাকবেন না, নিশ্চয়ই থাকবেন। তা’ই বা বলি কেমন করে? যিনি কখনো ঘরের বাহির হন নি, তিনি যখন পৃথ্বী ভ্রমণে যাচ্ছেন—এইটেই ত ভাবনার কথা!
৮টার মধ্যেই জিয়েন জিনিষ-পত্র ব্যাগে তুলিয়া প্রস্তুত হইল এবং একান্ত অস্থিরচিত্তে নিজের কক্ষদ্বার রুদ্ধ করিয়া প্রভুর সম্মুখীন হইল। মিঃ ফগ ইতিপূর্ব্বেই প্রস্তুত হইরা ব্রাডস কৃত একখানা “কণ্টিনেণ্টাল গাইড” হস্তে লইয়া বসিয়াছিলেন। জিয়েনের নিকট হইতে ব্যাগটি লইয়া তন্মধ্যে কতকগুলি নোট রাখিয়া বলিলেন, “কোন জিনিষ ত ভুলে গেলে না?”
“না।”
“আমার ম্যাকিণ্টস আর বড় কোটটা?”
“সঙ্গে নিয়েছি।”
“ব্যাগটা নাও। এটা বেশ সাবধানে রেখো। এর মধ্যে কিন্তু তিন লক্ষ টাকা থাকলো।”
তিন লক্ষ মুদ্রা! কত ভার! ব্যাগটা জিয়েনের নিকট অকস্মাৎ অত্যন্ত ভার বলিয়া বোধ হইতে লাগিল। সে বুঝি আর উহা ধরিয়া রাখিতে পারিতেছে না। ব্যাগটা বুঝি এবার নিশ্চয়ই হস্তচ্যুত হইল!
উভয়ে তখন সোপানাবতরণ করিয়া নীচে নামিলেন। গৃহের দ্বারে দুইটি তালা পড়িল। ফিলিয়াস্ ফগ একখানি গাড়ী ডাকিয়া ভৃত্যের সহিত আরোহণ করিলেন। গাড়ী চ্যারিংক্রশ্ ষ্টেশনাভিমুখে ছুটিল।
৮টা ২০ মিনিটের সময় ফিলিয়াস্ ফগ যখন ষ্টেশনমধ্যে প্রবেশ করিতেছিলেন, তখন জীর্ণচীরপরিহিতা এক অনাথিনী তাহার শিশু-