বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/২৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২০
৮০ দিনে ভূ-প্রদক্ষিণ

পুত্ত্রটিকে ক্রোড়ে লইয়া ভিক্ষার জন্য তাঁহার সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইল। মিঃ ফগ হুইষ্ট খেলিয়া যে টাকা পাইয়াছিলেন তাহা পকেটেই ছিল। সেই ২০টা গিনি ভিখারিণীকে দান করিয়া কহিলেন, “তোমার সঙ্গে দেখা হ’য়ে বড় খুসী হলেম। আজকের মত এই নাও।”

 জিয়েন মুগ্ধের ন্যার এই নীরব দান অবলোকন করিল। তাহার নয়নপ্রান্তে বারি-বিন্দু দেখা দিল। ফিলিয়াস্‌কে সে তন্মুহূর্ত্তেই তাহার হৃদয়মধ্যে উচ্চ আসনে স্থাপিত করিল।

 ফিলিয়াস্ যখন ভৃত্যকে প্যারিসের দুইখানি প্রথম শ্রেণীর টিকিট ক্রয় করিতে আদেশ দিতেছিলেন, তখন তাঁহার বন্ধুগণ ষ্টেশনে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তাঁহাদিগকে দেখিয়াই ফগ কহিলেন, “এই দেখুন, আমি ত এখনই যাত্রা করছি। আমার ছাড়-পত্রে কন্‌সালের স্বাক্ষর দেখলেই আপনাদের আর সন্দেহের কারণ থাকবে না।”

 গথিয়ার রাল্‌ফ বিনয়নম্রবচনে কহিলেন, “সে কি কথা! সে কি কথা! আমরা ত সকলেই জানি যে আপনার মুখের কথাই যথেষ্ট―ছাড় পত্রের আবশ্যক কি?”

 প্রত্যুত্তরে ফগ কহিলেন, “বেশ, আরো ভাল।” মিঃ ষ্টুয়ার্ট বন্ধুকে সতর্ক করিয়া দিয়া বলিলেন “কবে যে ফিরে আস্‌তে হ’বে, সেটা যেন ভুল না হয়।”

 ৮০ দিনের মধ্যেই―১৮৭২ সালের ২১শে ডিসেম্বর—রাত্রি ৮টা ৪৫ মিনিট। তবে এখন বিদায় হই।” ফিলিয়াস্ ফগ ভৃত্যের সহিত ট্রেণে উঠিয়া বসিলেন! ঠিক ৮টা ৪৫ মিনিটের সময় বংশীধ্বনি করিয়া ডোভার মেইল ছাড়িল।

 রজনী ভীষণ অন্ধকার। অল্প অল্প বৃষ্টি হইতেছিল। ফগ নীরবে এক প্রান্তে বসিয়া আরামে বিশ্রাম করিতে লাগিলেন। জিয়েন দৃঢ়মুষ্টিতে