বাজী ধরিয়া লিপ্ত হইবার জন্য কেহ কেহ বা সংস্কার-সমিতির সদস্যদিগকে পর্য্যন্ত নিন্দা করিয়া বলিতে লাগিল, “এ কথা যিনি প্রথমে প্রস্তাব করিয়াছিলেন, তাঁহার মস্তিষ্কও বিকৃত হইয়াছে।”
সচিত্র লণ্ডন নিউজ পত্রে যখন ফিলিয়াস্ ফগের চিত্র প্রকাশিত হইল, তখন কোন কোন দুঃসাহসিক লোক—বিশেষতঃ কতকগুলি রমণী ফগের কার্য্যের সমর্থন করিল। কেহ কেহ এমনও বলিল, পৃথিবীতে কত আশ্চর্য্য ব্যাপার ঘট্ছে—তা এটা আর হবে না?”
৭ই অক্টোবর তারিখে রয়াল ভৌগোলিক সমিতির পত্রে একটি সুদীর্ঘ প্রবন্ধ প্রকাশিত হইল। লেখক এই ভ্রমণ বৃত্তান্তের সমালোচনা করিয়া দেখাইলেন, ইহার সাফল্য একান্ত অসম্ভব। তিনি কহিলেন, ইহার পদে পদে বাধা—সে বাধা দুরতিক্রম্য। জাহাজ ও ট্রেণ যদি সর্ব্বদা ঠিক সময়মত যাতায়াত করে তবেই কৃতকার্য্য হওয়া সম্ভব। ইউরোপে হয় ত এরূপ ঘটিতে পারে, কিন্তু আমেরিকা এবং ভারতবর্ষে ইহা অসম্ভব। ট্রেণ ও ষ্টিমারের কল খারাপ হইয়া যাইতে পারে, রেল-লাইন হইতে গাড়ী নামিয়া পড়িতে পারে। রেল-সংঘর্ষ ঘটাও অসম্ভব নহে। ঝড়-তুফান, ভাসমান তুষারস্তূপ প্রভৃতি সমস্তই ফিলিয়াস্ ফগের বিষম অন্তরায়। খুব দ্রুতগামী ভাল জাহাজেরও অনেক সময় পথিমধ্যে ২।৩ দিন বিলম্ব হইয়া যায়। শীতকাল—ঝড়ের সময়। একদিন বিলম্ব হইলেই ত ফিলিয়াস্ ফগের সব মিটিল! কোন কারণে একখানা ষ্টিমার ধরিতে না পারিলেই অগ্রসর হইবার পথ রুদ্ধ হইয়া গেল—পরবর্ত্তী ষ্টিমার যে কবে ছাড়িবে, কে জানে?
প্রবন্ধ প্রকাশিত হইবামাত্রই উহা ইংলণ্ডের সকল পত্র-পত্রিকায় উদ্ধৃত হইয়া দেশমধ্যে প্রচারিত হইয়া পড়িল। ইতিপূর্ব্বেই এই ব্যাপার লইয়া বহু উচ্চ পণে যে বাজী ধরা আরম্ভ হইয়াছিল, সে পণের