মুল্য পর্য্যন্ত অবিলম্বে কমিতে লাগিল। সপ্তাহ অতীত হইতে না হইতেই ফগের দল একান্ত দুর্ব্বল হইয়া পড়িল। এমন সময় লণ্ডন পুলিসের বড় কর্ত্তা তার যোগে নিম্নলিখিত সংবাদটি পাইলেন—
“ব্যাঙ্কের নোট-চোর ফিলিয়াস্ ফগের সন্ধান পাইয়াছি। তাহাকে বোম্বাই নগরে গ্রেপ্তার করিবার জন্য পরোয়ানা চাই। ফিক্স গোয়েন্দা। সুয়েজ বন্দর।”
এই সংবাদ মুহূর্ত্তমধ্যে চতুর্দ্দিকে প্রচারিত হইয়া পড়িল। যিনি এতদিন সাধু ও সজ্জন বলিয়া সুপরিচিত ছিলেন, মুহূর্ত্তমধ্যে তিনি ভণ্ড দস্যু বলিয়া ঘৃণার্হ হইলেন! সংস্কার-সমিতির সদস্যদিগের আলোকচিত্রের মধ্যে ফিরিয়াসের যে চিত্র ছিল, লোকে উৎসুক হইয়া সেই চিত্রের সহিত দস্যুর মূর্ত্তি মিলাইয়া লইতে লাগিল। এ কি! এ যে ঠিক সেই চক্ষু! সেই নাসিকা! সেই ভ্রুযুগ! সেই উন্নত কপোল! সব সেই, সব সেই! ফিলিয়াস্ ফগ তবে নিশ্চয়ই দস্যু! সর্ব্বনাশ! লোকটা কি ধুর্ত্ত! কেহ কেহ বলিল, “ফিলিয়াস্ ফগ যে সৎলোক নহে, তাহা পূর্ব্বেই জানা গিয়াছিল। দস্যু না হইলে কি কেহ অমন একাকী থাকে—ত্রিসংসারে কাহারও সহিত মেলা-মেশা করে না!” কেহ কেহ বা বলিল,—“দেখেছ কাণ্ড! যেই ব্যাঙ্কের টাকাটা হাতে পড়েছে, অনি দেশভ্রমণের নাম ক’রে একটা মিথ্যা হুজুগ তুলে দিয়ে সরেছে—পুলিশে যেন আর তার কোন খোঁজ-খবর না পায়! উঃ! ফিলিয়াস্ ফগ কি ভয়ানক লোক!”