গোয়েন্দা পুলিশ ফিক্স—ব্যাঙ্কের নোট-চোর ধরিবার জন্য সুয়েজ বন্দরে প্রেরিত হইয়াছিলেন।
আগতপ্রায় জাহাজের অপেক্ষায় জেটীতে যে সমস্ত লোক অপেক্ষা করিতেছিল, মিঃ ফিক্স বিশেষ মনোযোগের সহিত তাহাদের প্রত্যেকের মূর্ত্তি অবলোকন করিতেছিলেন। ইনিই কি সেই চোর! না ইনি নহেন। উনি বুঝি—না উনিও ত নহেন! ফিক্স বিশেষ ব্যস্ত হইয়া ইতস্ততঃ ভ্রমণ করিতে লাগিলেন। ব্যাঙ্ককর্ত্তৃপক্ষদিগের প্রতিশ্রুত পুরস্কারের লোভ তাঁহাকে উৎসাহিত করিতে লাগিল। তিনিও অন্যের ন্যায় ব্যাকুল আগ্রহে মঙ্গোলিয়া জাহাজের জন্য অপেক্ষা করিতে করিতে তাঁহার সঙ্গীকে কহিলেন,—“আপনি তবে বল্তে চান, মঙ্গোলিয়ার কখনো দেরি হয় না?”
“না, কখনো দেরি হয় না। মঙ্গোলিয়া কাল সৈয়দ বন্দর ছেড়েছে। অত বড় একখানা জাহাজের কাছে সুয়েজের এই খালটা আর কতটুকু পথ? ঠিক নির্দ্দিষ্ট সময়ের আগে জাহাজ পৌঁছিলে সরকার বাহাদুর প্রত্যেকবার ৩৭৫৲ টাকা পুরস্কার দিয়ে থাকেন। আমি ত জানি, মঙ্গোলিয়াই সর্ব্বদা সে পুরস্কার পায়।”
“মঙ্গোলিয়া কি বরাবর ব্রিন্দিসি থেকে আসে?”
“হাঁ! ভারতবর্ষের ডাক ব্রিন্দিসিতেই জাহাজে উঠে। শনিবার বিকাল পাঁচটায় জাহাজ ছেড়েছে—এই এলো ব’লে। আপনি বেশী ব্যস্ত হবেন না। আচ্ছা, মনে করুন, ব্যাঙ্ক-দস্যু যদি জাহাজে থাকেই, আপনি দস্যুর চেহারার যে বর্ণনা পেয়েছেন, তা থেকেই কি তাকে চিনে নিতে পারবেন? আমার ত সন্দেহ হয়।”
“চেহারা কি! আমার মন তাকে চিনিয়ে দিবে। চোখে না দেখে যেমন কখন কখনও গায়ের গন্ধে মানুষ চেনা যায়, এও ঠিক তেমনি।