বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ—অসম্ভব সংঘটন
২৭

এ বয়সে আমি হাজার হাজার চোর দেখলেম। যদি সে এই জাহাজে থাকে, তা হ’লে আমাকে আর ফাঁকি দিতে হবে না!”

 “উঃ! এ একটা মস্ত চুরি! ভগবান্ করুন, আপনি যেন দস্যুকে ধরতে পারেন।”

 “মস্ত বলে’ মস্ত! এমন চুরি ক’টা হয়? ভাবুন দেখি, নগদ সাড়ে আট লক্ষ টাকা! এ কি কম কথা! যদি ধরতে পারি তা হ’লে পুরস্কারও পাব অনেক। এমন সুযোগ জীবনে ক’বার ঘটে? আজকাল যে কেমন হয়েছে, এমন জাঁহাবাজ চোর আর বড় দেখতে পাওয়া যায় না। এখন কেবল ছেঁচ্‌ড়া চোরের দিন হয়েছে—দু’টাকা, চারটাকা পেলেই তারা খুসি।”

 “আপনার কথাগুলো বড় উত্তেজনা পূর্ণ। আপনি যদি ধরতে পারেন, তা হ’লে ত ভালই হয়। কিন্তু আমার আশঙ্কা হচ্ছে—কাজটা বড় সহজ হবে না। আপনি যার চেহারার বর্ণনা পেয়েছেন, হয় ত হ’তে পারে, তিনি আদৌ চোর নন। সে চেহারা হয় ত একজন নির্দ্দোষী সাধু ভদ্রলোকের।”

 “কি জানেন, বড় বড় চোরেরা বাহিরে ঠিক সাধু-সজ্জনের মতই থাকে। দস্যুর মত চেহারা যার, সে কি আর সাহস ক’রে চুরি করতে পারে? চেহারা দেখেই যে লোকে আগে তাকেই সন্দেহ করবে। ভণ্ড সাধুতার জীর্ণ আবরণ উন্মোচন করাই ত আমাদের কাজ। কাজটা খুব কঠিন বটে, কিন্তু ওতেই ত বাহাদুরী!”

 এ দিকে জেটীর উপর লোকসমাগম বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইল। নানা দেশের নাবিক, মহাজন, ভারবাহী মুটে-মজুর প্রভৃতি সমবেত হইতে লাগিল।

 দিনটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন ছিল। লবণাম্বুস্পর্শশীতল মন্দ মন্দ