পবন ধীরে ধীরে পূর্ব্বদিক্ হইতে বহিতেছিল। দুরে নগরমধ্যবর্ত্তী গম্বুজগুলির চূড়া তপনকিরণে ঝক্মক্ করিতেছিল। ধীবরদিগের সহস্র সহস্র ক্ষুদ্র তরণী লোহিত সাগরমধ্যে বিন্দুবৎ প্রতীয়মান হইতেছিল। প্রাচীন প্রথায় গঠিত দুই একখানি অর্ণবপোতও যে সেই বিন্দুগুলির সন্নিকটে না ছিল, তাহা নহে।
জেটীর ঘড়িতে সাড়ে দশটা বাজিয়া গেল।
ফিক্স নিতান্ত বাগ্র হইয়া কহিলেন, “না—এ জাহাজ আর আজ আস্বে না দেখছি।”
কন্সাল কহিলেন, “আর বেশ বিলম্ব নাই।”
“সুয়েজে কতক্ষণ নোঙ্গর করবে?”
“ঘণ্টা চারেক। এই খানেই জাহাজে কয়লা তোলে। সুয়েজ থেকে এডেন বন্দর ১৩১০ মাইল—বুঝতেই পারছেন, কত কয়লা প্রয়োজন।”
“সুয়েজ থেকেই বুঝি বরাবর বোম্বাই যায়?”
“হাঁ, একদমে বোম্বাই―পথে আর কোথাও দাড়ায় না।”
ফিক্স কহিলেন, “তাই ত! দস্যু যদি এই পথেই মঙ্গোলিয়া জাহাজে এসে থাকে, তা হ’লে ইংরাজ পুলিশকে ফাঁকি দেওয়ার মতলবে সে সুয়েজেই নামবে। তারপর এখান থেকে দিনেমার কি ফরাসীদের কোন একটা নিকটবর্ত্তী উপনিবেশে যাবার চেষ্টা করবে। ভারতবর্ষ ইংরাজের রাজত্ব। সেখানে গেলে যে কোন সুবিধা হবে না, তা সে বিলক্ষণই জানে।”
“লোকটা যে তেমন চালাক চতুর, আমার তা’ বোধ হয় না। চালাক হ’লে সে এতদূর আসবে কেন? লণ্ডনেই ত লুকিয়ে থাকা সহজ।”
কন্সাল এই কথা বলিয়া নিজ কর্ম্মস্থানে প্রস্থান করিলেন। তাঁহার কথায় গোয়েন্দার চিন্তা আরও বাড়িয়া উঠিল।