অবিলম্বে অদূরে ঘন ঘন তীব্র বংশীধ্বনি শ্রুতিগোচর হইল। যে যেখানে ছিল, সকলেই উর্দ্ধশ্বাসে জেটীর দিকে ছুটিল। তীরের নৌকাগুলি মুহূর্ত্তমধ্যে নোঙ্গর তুলিয়া বাঁধন খুলিয়া মঙ্গোলিয়া জাহাজের দিকে অগ্রসর হইল। ঠিক এগারটার সমন্ন মঙ্গোলিয়া নির্দ্দিষ্ট স্থানে নোঙ্গর নিক্ষেপ করিয়া হু হু শব্দে বাষ্প উদ্গীরণ করিতে লাগিল।
জাহাজে অনেক যাত্রী ছিল। কেহ কেহ জাহাজে থাকিয়াই চতুর্দ্দিকের মনোরম দৃশ্যাবলী দর্শন করিতে লাগিল, কেহ বা তরী আরোহণে তীরে আসিল। ফিক্স গোয়েন্দা অতি যত্নে প্রত্যেক আরোহীকে দেখিতে লাগিলেন। তিনি যখন এইরূপে ব্যাঙ্ক-দস্যুর সন্ধানে ব্যস্ত, তখন একজন যাত্রী জনতা ঠেলিয়া নিকটে আসিয়া তাঁহাকেই জিজ্ঞাসা করিল, “ম’শায়, বল্তে পারেন কন্সাল আফিস্টা কোথায়?” কথা কহিতে কহিতে আগন্তুক পকেট হইতে একখানি ছাড়-পত্র বাহির করিয়া বলিল, “আমি তাঁর সহি নিতে চাই।”
ফিক্স গোয়েন্দা ছাড়-পত্রখানি লইয়া পাঠ করিলেন। তাঁহার হস্ত কম্পিত হইতে লাগিল। কি অসম্ভব সংঘটন! ইহা যে সেই দস্যুরই ছাড়-পত্র? ইহাতে পত্রাধিকারীর আকৃতির যে বর্ণনা রহিয়াছে, দস্যুর আকৃতিও যে সেইরূপ! ফিক্স আগন্তুকের দিকে চাহিয়া কহিলেন—“এটা ত তোমার ছাড়-পত্র নয়?”
“না। এটা আমার মনিবের।”
“তিনি কোথায়?”
“জাহাজে আছেন।”
“তাঁকেই কন্সাল আফিসে যেতে হবে, তুমি গেলে চলবে না।”
“তিনি না গেলে কি চলবেই না?”
“না।”