“কেন? তার ছাড়-পত্রখানা পাঁচজনকে দেখাতে না কি?”
“তা বৈ কি? দস্যুর পলায়নপথ নিষ্কণ্টক করা আর ভালমানুষকে অনর্থক জঞ্জালে ফেলা—এ ছাড়া ছাড়পত্রের আর কি কোনো উপকারিতা আছে, ব’লতে পারেন? এর ছাড় পত্রখানা যে ঠিকই আছে, তাতে আমার সন্দেহ নাই। ভরসা করি, আপনি ওতে স্বাক্ষর ক’রবেন না।
“কেন? যদি পত্রে কোন গোলযোগ না থাকে, তা হ’লে আমাকে ত বাধ্য হয়েই স্বাক্ষর ক’রতে হবে।”
“তা হোক্। আমি যতক্ষণ লণ্ডন থেকে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা না পাচ্ছি, ততক্ষণ ত দস্যুকে এখানে আট্কে রাখতে হবে।”
“মিঃ ফিক্স, সেটা হ’ল আপনার কাজ। আপনি তার ব্যবস্থা ক’রবেন কিন্তু আমার—”
কন্সালের মুখের কথা মুখেই রহিয়া গেল। উভয়ে শুনিলেন দ্বারে করাঘাত হইল। করাঘাতের সঙ্গে সঙ্গেই ভৃত্য আসিয়া দুই জন অপরিচিত লোককে তথায় রাখিয়া প্রস্থান করিল। ইহাদের মধ্যে একজন একখানা ছাড়-পত্র লইয়া স্বাক্ষর করিবার জন্য কন্সাল সাহেবের হস্তে প্রদান করিলেন। কন্সাল ছাড়-পত্রখানি বিশেষরূপে পরীক্ষা করিতে লাগিলেন, এ দিকে গোয়েন্দা ফিক্স এক কোণে নীরবে বসিয়া আগন্তুকের কেশাগ্র হইতে জুতার অগ্রভাগ পর্য্যন্ত অত্যন্ত আগ্রহের সহিত নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। ছাড়পত্র পাঠ করিয়া কন্সাল কহিলেন—“আপনার নাম ফিলিয়াস্ ফগ?”
“হাঁ।”
“এই লোকটি কি আপনার ভৃত্য?”
“হাঁ। ওর বাড়ী ফরাসী দেশে। নাম জিয়েন পাসে পার্ত্তুত।”
“আপনি লণ্ডন থেকে আস্ছেন?”