ছিলাম! সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট থেকে ৮টা ৪০ মিনিট পর্য্যন্ত―এক ঘণ্টা। আমরা যখন আসি তখন ভয়ানক বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির মধ্যেই একখানা গাড়ীর জানালা দিয়ে যা’ একটু দেখেছি। আমার এখন বড় আপশোষ হচ্ছে। প্যারিসের সে সব সুন্দর সুন্দর স্থান আবার দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে।”
“তা হ’লে দেখছি তোমাকে বড়ই তাড়াতাড়ি যেতে হচ্ছে।”
“না—আমার আবার তাড়াতাড়ি কিসের? আমার মনিবেরই যত তাড়াতাড়ি। ভাল কথা দেখুন, আমাকে কয়েকটা কামিজ আর এক জোড়া জুতা কিনতে হবে। আমরা যখন লণ্ডন থেকে আসি তখন আমাদের সঙ্গে একটা ছোট কার্পেট-ব্যাগ ভিন্ন আর কিছুই ছিল না।”
“চল না, এখনই তোমাকে বাজারে নিয়ে যাচ্ছি। সেখানে যা’ চাবে তা’ই পাবে।”
জিয়েন সবিনয়ে কহিল, “আপনি একান্ত সজ্জন। আচ্ছা চলুন তবে। জাহাজখানা ছাড়ার আগেই আবার আমাকে ফিরে আস্তে হবে।”
উভয়ে গল্প করিতে করিতে নগরমধ্যস্থ বিপণির দিকে যাত্রা করিলেন। যাইতে যাইতে গোয়েন্দা কহিলেন, “এখনো জাহাজ ছাড়ার দেরি আছে। এই ত সবে ১২টা বেজেছে।”
জিয়েন তাহার প্রকাণ্ড ঘড়িটা পকেট হইতে বাহির করিয়া কহিল, “বারটা বেজেছে! আমার ঘড়িতে ত ৯টা বেজে ৫২ মিনিট।”
“তা হলে তোমার ঘড়ি ভুল।”
“ভুল—আমার ঘড়ি ভুল! আমার ঠাকুরদাদার আমল থেকে ঘড়িটা, ঠিক সময় দিয়ে আস্ছে, আর আজ ভুল হ’য়ে গেল! আমি উত্তরাধিকার সূত্রে এই ঘড়ি পেয়েছি। এতে ঠিক সময় থাকে—বছরে