বলতে বাধা কি, আমি ত এ কথার বিন্দুমাত্রও বিশ্বাস করি না। মাথার ঠিক থাকলে কি আর কেউ এমন কাজে হাত দেয়? আমার ত বোধ হয় এর অন্য কারণ আছে।
“তোমার মনিব ত বড় আশ্চর্য্য লোক দেখছি। ওঁর জোড়া মেলা ভার।”
“কতকটা তাই বটে”
“উনি কি একজন বড় লোক?”
“নিশ্চয়ই। ওঁর সঙ্গে টাকা কত। সবই ব্যাঙ্কের টাটকা নোট! খরচ-পত্র করতে মুনিব মহাশয়কে কখনো কুণ্ঠিত দেখি না। নির্দ্দিষ্ট সময়ের আগে মঙ্গোলিয়া জাহাজ বোম্বাই পৌছিলে মঙ্গোলিয়ার কলওয়ালাকে বিশেষ পুরস্কার দিতে চেয়েছেন।
“তুমি কি অনেকদিন থেকে এর চাকুরি করছ?”
“অনেক দিন ত দূরের কথা যে দিন আমরা লণ্ডন ছেড়েছি, ঠিক সেই দিন থেকেই আমার চাকুরির আরম্ভ।”
ভৃত্যের কথা শুনিয়া ফিক্স গোয়েন্দার চিত্ত যে কিরূপ উদ্বেলিত হইয়াছিল, তাহা সহজেই অনুমেয়। ব্যাঙ্কে দস্যুতা হইবার পর পরই অত তাড়াতাড়ি লণ্ডন পরিত্যাগ, সঙ্গে অত ব্যাঙ্ক নোট, একটা বাজীর ভাণ করিয়া ভারতবর্ষে পৌছিবার জন্য এত বাগ্রতা এ সমস্তই গোয়েন্দা ফিক্সের পূর্ব্ব সন্দেহকে আরও সুদৃঢ় করিয়া তুলিল। তিনি মনে মনে সঙ্কল্প করিলেন দস্যুর এই ফরাসী ভৃত্যের নিকট হইতে আরও সংবাদ সংগ্রহ করিতে হইবে।
তিনি জিয়েনের সহিত গল্প আরম্ভ করিলেন। কথা প্রসঙ্গে বুঝিতে পারিলেন যে ফিলিয়াস্ ফগ লণ্ডনে একাকী বাস করেন। লোকে বলে তাঁহার অর্থের অভাব নাই—কিন্তু কিরূপে কোন্ স্থান হইতে উহা