আইসে তাহা কেহ জানে না। মিঃ ফগের জীবন কুহেলিকা-সমাচ্ছন্ন। সে অন্ধকার যবনিকার অন্তরালে যে কি লুক্কায়িত আছে তাহা কেহই জানে না—ভৃত্যটাও সে কথা বলিতে পারে না।
তাঁহার চিন্তা-স্রোতকে বাধা দিয়া জিয়েন জিজ্ঞাসা করিল—
“বোম্বাই কি এখান থেকে অনেক দূর?”
“নিতান্ত কম দূর নয়। জাহাজে ১০ দিনে যাওয়া যায়।”
“বোম্বাই কোন্ দেশে?”
“ভারতবর্ষে।”
“ভারতবর্ষে? তবে বুঝি এসিয়ায়?”
“হাঁ—এসিয়ায়। হায় কপাল! বাতিটার কথাই আমার দিনরাত মানে হচ্ছে?”
“বাতি! কিসের বাতি!”
“যখন আমি লণ্ডন থেকে আসি তখন আমার কক্ষের গ্যাসের বাতিটা নিবিয়ে দিতে ভুলে এসেছি। বাতিটা আমারই খরচে আজ পর্য্যন্তও জ্বলছে। বাতির জন্য আমার প্রতিদিন দেড়টাকা করে’ লোকসান হচ্ছে—আনার দৈনিক মাহিনার চেয়েও রোজ ছয় আনা করে’ বেশী কাটা যাচ্ছে! যদি আমরা সকালে সকালে লণ্ডনে ফিরতে না পারি—”
ফরাসী জিয়েনের দুর্দ্দশার কাহিনী শুনিবার অবসর তখন মিঃ ফিক্সের আদৌ ছিল না। সম্মুখেই মঙ্গোলিয়া অর্ণবপোত। সেই পোতেই ব্যাঙ্কদস্যু ফিলিয়াস্ ফগ স্বচ্ছন্দচিত্তে বোম্বাই প্রস্থান করিতেছে— অথচ তাহাকে ধরিবার উপায় নাই! ব্যাঙ্ক-প্রতিশ্রুত পুরস্কাররাশি গোয়েন্দা সাহেবের মুষ্টি মধ্যে আসিয়াও যেন হাতের বাহির হইয়া যাইতেছে! হায় হায়! এ কি বিড়ম্বনা! দস্যুকে ধরিবার উপায়ও নাই, বিলম্ব করিবারও সময় নাই! মিঃ ফিক্স জিয়েনকে