বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/৫২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অষ্টম পরিচ্ছেদ—মঙ্গোলিয়া অর্ণবপোত
৪৩

দুলিত, তরঙ্গে তরঙ্গে নৃত্য করিত। কাহার সাধ্য দাঁড়াইয়া থাকে! পিয়ানোর কোমল মধুর স্বর-লহরী তখন নীরব হইত, রমণীর লীলাচঞ্চল চরণ সংঘাতে তখন আর নৃত্যশালা কম্পিত হইত না। কিন্তু মঙ্গোলিয়া পোত সেই তুফান ঠেলিয়া তরঙ্গ ভাঙ্গিয়া নক্ষত্রবেগে ছুটিতেছিল।

 সম্মুখে তরঙ্গভঙ্গময় অনন্ত সমুদ্র, নৃত্যশীল তরঙ্গের শিরে নৃত্যশীল অর্ণবপোত। চারিদিকে জলোচ্ছ্বাস—অবিরাম বিকট জলভঙ্গরব, মধ্যে মধ্যে বেগশালী পবনের ভীষণ হাহাধ্বনি―ফিলিয়াস্ ফগ কি এই সকল দেখিয়া হতাশ হইতেছিলেন? তাঁহার চরিত্র সেরূপ ছিল না। যদি বা কখনো মুহূর্ত্তের জন্য এ সকল চিন্তা তাঁহার হৃদয়ে আসিত, কিন্তু বাহিরে উহা প্রকাশিত হইত না। কিছুই তাঁহাকে বিচলিত করিতে পারিত না।

 তিনি কদাচিৎ জাহাজের ডেকের উপর আসিতেন, কদাচিৎ উচ্ছৃঙ্খল অথচ সুন্দর লোহিত সাগরের দিকে চাহিয়া দেখিতেন; মানব ইতিহাসের কোন্ পৃষ্ঠা এই সাগরের কাহিনীর সহিত বিজড়িত থাকিয়া গৌরবময় হইয়াছিল কদাচিৎ সে চিন্তা তাঁহার হৃদয়ে স্থান পাইত। কোন্ অতীত যুগের কোন্ বিরাট ঘটনা, যাহা পৃথিবীর ইতিহাসের কায়া পরিবর্ত্তিত করিয়াছিল, যাহা লোহিত সাগরকে চিরস্মরণীয় ও চিররমণীয় করিয়া রাখিয়াছে, তাহা কদাচিৎ তাঁহার চিন্তার বিষয়ীভূত হইত।

 দূরে নীলাকাশের গাত্রে যে সকল নগর আলেখ্যবৎ প্রতিভাত হইত, কদাচিৎ তিনি সে দিকে চাহিয়া দেখিতেন। ষ্ট্রাবো, এরিয়ান, আর্টিমিডরাস, প্রভৃতি প্রাচীন পর্য্যটকগণ যে ভীষণ আরব্য সাগরের ভীষণ বর্ণনা করিয়া যাত্রীদিগের ভীতি ও চিন্তার কারণ ঘটাইয়া গিয়াছেন, যে আরব্য সাগর অতিক্রম করিবার পূর্ব্বে এককালে শঙ্কিত নাবিকগণ সমুদ্র-দেবতার