পূজা না করিয়া কখনো জাহাজ ছাড়িত না—ফিলিয়াস্ ফগ সে বিষয়েও নিতান্ত নিশ্চিন্ত ছিলেন। এমন কি মঙ্গোলিয়া পোত পূর্ব্ববৎ দ্রুতবেগে যাইতেছে কি তুফানে শ্লথগতি হইয়াছে সে চিন্তাও তাঁহার হৃদয়ে স্থান পাইত না।
ফিলিয়াস্ ফগ কি তবে তাঁহার কক্ষমধ্যে বদ্ধ থাকিয়া কার্য্যহীন সময় নিদ্রায় অতিবাহিত করিতেন? তাহা নহে। জাহাজেই তাঁহার তিন জন সঙ্গী জুটিয়াছিল। তাঁহারাও ফিলিয়াসেরই ন্যায় তাসক্রীড়ায় মত্ত ছিলেন। মঙ্গোলিয়া কম্পিতই হউক আর তরঙ্গের শিরে নৃত্যই করুক; ফিলিয়াসের তাহাতে কিছু আসিয়া যাইত না। তিনি নিরূপিত সময়ে ভোজন করিতেন এবং সঙ্গিত্রয়ের সঙ্গে হুইষ্ট খেলিতেন। তাঁহার সময় কাটিতে সময় লাগিত না।
জিয়েনও বেশ স্বচ্ছন্দ চিত্তেই সময় অতিবাহিত করিতেছিল। চতুর্দ্দিকের নানা দৃশ্যাবলী, উচ্ছ্বসিত সাগরের উদ্দাম লীলা-ভঙ্গ এবং জাহাজের সুস্বাদু ভোজ্য ও পেয়ঃ প্রভৃতি তাহাকে সর্ব্বদা পরিতৃপ্ত রাখিত। তাহার মনে মনে বিশ্বাস হইয়াছিল বোম্বাই গেলেই তাহাদিগের ভ্রমণব্যাপার পরিসমাপ্ত হইবে, নতুবা এ অস্বাভাবিক পর্য্যটন আর কতদিন চলিতে পারে!
জাহাজের ডেকে পাদচারণ করিতে করিতে জিয়েন দেখিল তাহার সুয়েজের সেই সজ্জন বান্ধবটীও একজন সহযাত্রী। তাঁহাকে দেখিয়াই সে কহিল—
“আমি ত আপনাকে সুয়েজে দেখেছি না? সেখানে আপনি অনুগ্রহ করে আমার জন্য কত শ্রম করেছিলেন।”
“ও তাই ত! তুমিই ত সেই! সেই মাথা-পাগলা ইংরেজ ভদ্রলোকের ফরাসী ভৃত্য—কেমন না?”