আমি ঠিক রাক্ষসের মত খাচ্ছি। সমুদ্রের হাওয়ায় বোধ হয় ক্ষুধা বাড়ায়।”
“কৈ তোমার মনিব ত কখনো ‘ডেকে’ আসেন না!”
“না। তাঁর কোন বিষয়েই কৌতূহল নাই।”
“মিষ্টার জিয়েন, আমার বোধ হয় এই ৮০ দিনে পৃথিবী-পরিভ্রমণের ব্যাপারটা একটা ভাণ মাত্র। এর অন্তরালে বিশেষ কোনো একটা গুরুতর বিষয় লুকানো আছে। হয়ত কোনো রাজনৈতিক ব্যাপারও হ’তে পারে। কি বল?”
“শপথ ক’রে বল্তে পারি, আমি এ সব কথার কিছুই জানি না। জানার জন্য আমার কোন আগ্রহও নাই।”
সে দিনের মত কথাবার্ত্তা এইখানেই সমাপ্ত হইল। কিন্তু পরে সুযোগ পাইলেই ফিক্স গোয়েন্দা এই ফরাসী ভৃত্যের নিকট হইতে সংবাদ সংগ্রহ করিতে চেষ্টা করিতেন। সে জন্য তিনি মধ্যে মধ্যেই জিয়েনকে দুই এক গ্লাস মদ্যপান করিবার নিমিত্ত নিমন্ত্রণ করিতেন। জিয়েন ভাবিত, বাঃ, লোকটা কি অমায়িক—এমন ভদ্রলোক দেখা যায় না।
জাহাজ যেন চলিতেছিল চলিতেই লাগিল। ওই অদূরে ভগ্ন জীর্ণ প্রাচীরবেষ্টিত মোসা নগর। প্রাচীরের উপর দিয়া কতকগুলি খর্জ্জুর বৃক্ষ শির উত্তোলন করিয়া সমুদ্র দর্শনে আত্মহারা। দূরে অতি বিস্তীর্ণ কফির ক্ষেত্র। মোসার দিকে চাহিলে মনে হয় যেন ইহার আকৃতি একটা প্রকাণ্ড চা’র পেয়ালা ও রেকাবের মত।
দ্রুতগামী মঙ্গোলিয়া মোসা ছাড়িল, বেবেলমণ্ডেব ছাড়িল, এদেন বন্দরের উত্তরে অবস্থিত ষ্টীমার পইণ্ট ছাড়িল। তখনো বোম্বাই ১৬৫০ মাইল। ১৫ই তারিখে এদেন বন্দরে না আসিয়া মঙ্গোলিয়া ১৪ই