লণ্ডন হইতে বোম্বাইয়ে পৌঁছিবার উপযুক্ত সময় তখনো হইয়াছিল না। গোয়েন্দা হতাশ হইয়া পড়িলেন। তিনি পুলিশ কমিশনারের নিকট একখানি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রার্থনা করিলেন। পুলিশ কমিশনার কহিলেন, “এ পরোয়ানা বিলাত হইতে দিবে। আমার দিবার কোন অধিকার নাই।”
মিঃ ফিক্স নিরুপায় হইয়া বিলাতের পরোয়ানার অপেক্ষার রহিলেন এবং দস্যু যাহাতে পলায়ন করিতে না পারে, সে জন্য তাঁহার উপর খর দৃষ্টি রাখিলেন। তাঁহার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, মিঃ ফগ অন্ততঃ দুই চারিদিন বোম্বাই নগরে থাকিবেনই। ইহার মধ্যেই পরোয়ানা আসিয়া উপস্থিত হইবে।
জিয়েনেরও ধারণা ছিল যে, তাহারা কিছুকাল বোম্বাই নগরে থাকিবে কিন্তু তাহার স্বপ্ন ভাঙ্গিয়া গেল। সে দেখিল, অন্ততঃ কলিকাতা পর্য্যন্ত যাইতেই হইতেছে। কে বলিতে পারে আরো অধিক দূর যাইতে হইবে না। তাহার ধীরে ধীরে বিশ্বাস হইতে লাগিল, ‘তবে বুঝি পৃথ্বী-ভ্রমণের বাজীর কথা মিথ্যা নহে।’ সে তাহার পোড়া অদৃষ্টকে ধিক্কার দিতে লাগিল।
প্রভুর আদেশমত জিনিষপত্র ক্রয় করিয়া জিয়েন রাজপথে ভ্রমণ করিতে লাগিল। ইংরাজ, ফরাসী, সিন্ধিয়, আরমেনিয়—কত দেশের লোক নানাপ্রকার বেশভূষা করিয়া পথে বাহির হইয়াছে। ভ্রমণ করিতে করিতে জিয়েন দেখিল পার্শীদিগের একটা শোভাযাত্রা আসিতেছে। চিক্কণ রঙ্গীন গোলাপী বসনে সজ্জিতা কতকগুলি নর্ত্তকী নিপুণতা সহকারে নৃত্য করিতে করিতে সেই শোভাযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে যাইতেছে। উদ্দাম স্বরলহরী তুলিয়া যন্ত্রী যন্ত্র বাজাইতেছে। জিয়েন বিপুল আনন্দে সেই শোভাযাত্রা দেখিতে লাগিল। যন্ত্রের কোমল রাগিণী তাহার কর্ণে মধু বর্ষণ করিতে লাগিল। সে আত্মহারা হইয়া বিশ্ববিস্ফারিত নেত্রে শোভাযাত্রার দিকে চাহিয়া রহিল।