জিয়েন যতই ইতস্ততঃ ভ্রমণ করিতে লাগিল, তাহার কৌতূহলও ততই বর্দ্ধিত হইতে আরম্ভ করিল। রেলওয়ে ষ্টেশনের পথে আসিতে আসিতে সে দেখিল, অদূরে মালাবার শৈল-শৃঙ্গে একটা সুন্দর দেউল দেখা যাইতেছে। জিয়েন ভাবিল, ‘এমন সুন্দর মন্দিরটা একবার দেখিব না?’ সে অগ্রসর হইল।
ফরাসী জিয়েন জানিত না যে কতকগুলি মন্দিরে, এমন কি মন্দিরের প্রাঙ্গণে পর্য্যন্ত খ্রীষ্টানের প্রবেশাধিকার নাই। যাহারা প্রবেশ করিবার অধিকারী, তাহাদিগকেও প্রাঙ্গণোপ্রান্তে পাদুকা পরিত্যাগ করিয়া প্রবেশ করিতে হয়। এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাইলেই ইংরাজের রাজদণ্ড ব্যত্যয়কারীর শিরে নিপতিত হয়।
অনভিজ্ঞ জিয়েন যখন নিঃসন্দিগ্ধচিত্তে পাদুকাসহ মন্দির-প্রাঙ্গণে প্রবেশ করিয়া একান্ত উল্লাসের সহিত মনে মনে মন্দিরের কলাকৌশলের প্রশংসা করিতেছিল, তখন কে যেন আসিয়া মুহূর্ত্তমধ্যে তাহাকে ভূপাতিত করিল! সে চক্ষু চাহিয়া দেখিল, তিন জন ক্রুদ্ধ হিন্দু তাহার নিকটে দাঁড়াইয়া একান্ত দুর্ব্বোধ্য ভাষায় তীব্র ভাবে শাসন করিতেছে। একজন বলপূর্ব্বক তাহার পাদুকা খুলিয়া দূরে নিক্ষেপ করিল এবং অপর দুইজন মুহূর্ত্তমধ্যে তাহাকে আক্রমণ করিয়া ভীমবেগে প্রহার করিতে লাগিল!
সেই চটুল ফরাসী চক্ষের নিমেষে উঠিয়া দাঁড়াইল এবং দুই চারিটা সুপরিচালিত অভ্যস্ত মুষ্ট্যাঘাতে বিপক্ষদলকে পরাজিত করিয়া নক্ষত্রবেগে গলায়ন করিল। চারিদিকে শব্দ উঠিল—ধর্ ধর্, মার্ মার্! ক্ষিপ্ত হিন্দুগণ ছুটিতে লাগিল—ধর্ ধর্, মার্ মার্! পলায়মান জিয়েন অল্পক্ষণ মধ্যেই রাজপথের লোক-সমুদ্রে মিশিয়া গেল—আর কেহ তাহার সন্ধান পাইল না।
ট্রেণ ছাড়িবার ৫ মিনিট পূর্ব্বে জিয়েন হাঁপাইতে হাঁপাইতে ষ্টেশনে