বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/৬২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দশম পরিচ্ছেদ—বিপদে কিউনি
৫৩

 “আর কিছুদিন আগে হ’লে আপনাকে বিফলমনোরথ হ’তে হ’তো—৮০ দিনে পৃথ্বী-ভ্রমণ সম্ভব হ’তো না।”

 “কেন?”

 ঘাটপর্ব্বতমালার পাদদেশ পর্য্যন্তই তখন রেল ছিল। তারপর আর রেলপথ ছিল না। তখন সেখান থেকে পাল্কীতে কিম্বা অশ্বারোহণে যেতে হতো।”

 “ও সব সামান্য বিঘ্নে আমার যে বিশেষ কিছু অসুবিধা হ’তো তা বোধ হয় না। পথে যে মধ্যে মধ্যে বাধাবিঘ্ন এসে উপস্থিত হ’বে, সেটা ত জেনে শুনেই বেরিয়েছি।”

 “যা হোক্‌ মিঃ ফগ, আজই ত আপনার সব গিয়েছিল আর কি। আপনার চাকরটাই সব মাটি করতে বসেছিল!” যখন এই সকল কথা হয়, তখন জিয়েন একখানা কম্বল জড়াইয়া নিশ্চিন্তে নিদ্রা যাইতেছিল। সার ফ্রান্সিস্ বলিতে লাগিলেন,—

 “ব্রিটিশ-রাজত্বে এ সব অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর বলে গণ্য হয়। এ দেশের প্রজাসাধারণের ধর্ম্মবিশ্বাসের উপর যা’তে আঘাত লাগে, ইংরাজের আমলে তেমন কিছু ঘটতে পারে না। আজ যদি আপনার চাকরটী ধরা পড়তো―”

 “তা হ’লে আর কি হ’তো বলুন। এ দেশের আইন অনুসারে না হয় তার দণ্ড হ’তো, দু’দিন পরই সে আবার ইউরোপে ফিরে যেত। চাকরের জন্য কি আর আমাকে পর্য্যন্ত এখানে আট্‌কে বসে থাকতে হতো! তা নয়। আমি তা হ’লে একাই চলে যেতেম।”

 ক্রমেই রজনী গভীরা হইতে লাগিল—সকলে নিদ্রিত হইয়া পড়িলেন। ট্রেণ যেমন তীরবেগে যাইতেছিল, তেমনি চলিল।

 প্রভাত—অতি সুন্দর প্রভাত। মেঘশূন্য নির্ম্মল নীল আকাশ