বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/৬৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৪
৮০ দিনে ভূ-প্রদক্ষিণ

সূর্য্য-কিরণে হাসিতেছে। দূরে ধূসরবর্ণ গিরিশ্রেণী মেঘের ন্যায় শোভা পাইতেছে। রেলপথের উভয় পার্শ্বে সুবিস্তৃত কর্ষিত ভূমি―মধ্যে মধ্যে দুইকখ এানি খণ্ড গ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের বৈচিত্র্য ঘটাইতেছে মাত্র। কোথাও বা গ্রামপ্রান্তে অবস্থিত দুই একটী ক্ষুদ্র মিনার বা মন্দিরের চূড়া ক্ষণেকের জন্য দেখা যাইতেছে। গোদাবরী নদীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখাপ্রশাখাগুলি বান্দেশের এই বিশাল প্রান্তর ধৌত করিরা নানাস্থান দিয়া বহিয়া চলিয়াছে।

 জিয়েন মনোযোগের সহিত চতুর্দ্দিক্ দেখিতে লাগিল। এই কি সেই নদীমেখলা কাননকুন্তলা শৈলকিরীটিনী ভারতভূমি? ওই কি তাহার বাতান্দোলিত তরঙ্গায়িত শ্যাম সমুদ্র? ওই না দূরে দূরে কফি, তূলা ও লবঙ্গের ক্ষেত্র দেখা যাইতেছে। না, এ বুঝি ভারতবর্ষ নহে! সে দেখিতে লাগিল, কোথাও সুদীর্ঘ তালবৃক্ষগুলি উন্নতশিরে দণ্ডায়মান রহিয়াছে। এঞ্জিনের মুখনিঃসৃত কুণ্ডলীকৃত মসিবর্ণ ধূমরাশি তাহাদের মস্তক স্পর্শ করিয়া ক্ষণিকের জন্য আবৃত করিয়া—উড়িয়া যাইতেছে। কোথাও বা হরিৎ ক্ষেত্রের মধ্যে মনোহর গৃহগুলি চিত্রলেখাবৎ শোভা পাইতেছে, কোথাও বা পরিত্যক্ত ধর্ম্মমন্দিরগুলি ভারতীয় স্থাপত্যের জীর্ণ জয়পতাকা শিরে বহন করিয়া এখনও মৌনে দণ্ডায়মান রহিয়াছে। কোন স্থানে রেলপথ দুর্ভেদ্য কাননভূমি অতিক্রম করিয়া চলিয়াছে। ভীষণকায় শার্দ্দূল, বিষাক্ত সর্পাদি রেলগাড়ীর অবিরাম ঘর্ঘর নিনাদে ভীত হইয়া এদিক ওদিক্ পলায়ন করিতেছে, কোন স্থানে দুই একটী সুবৃহৎ মাতঙ্গ উন্নতশুণ্ড হইয়া দূর হইতে দ্রুতগামী গাড়ীর দিকে চাহিয়া রহিয়াছে।

 ট্রেণ তখন মল্লিগ্রাম প্রদেশ অতিক্রম করিতেছিল। শক্তিপূজার নরশোণিতে আর্দ্র হইয়া যে ভূমি একদিন শাক্তদিগের নিকট পবিত্র