বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দশম পরিচ্ছেদ—বিপদে কিউনি
৫৫

হইয়াছিল, ইহা সেই ভূমি। ওই সুদূরে ইলোরার ভুবনবিখ্যাত মন্দিরাদির উন্নত শৈলশৃঙ্গ তপ্ত তপনকিরণে ঝলসিতেছে। এই বুঝি ঔরঙ্গাবাদ। এখানেই একদিন শাহান্‌শাহ বাদশাহ ঔরঙ্গজেব রাজধানী নির্ম্মাণ করিয়াছিলেন। এই প্রদেশেই ত একদিন ঠগীসর্দ্দার ফেরিঙ্গিয়া পাশবরাজ্য বিস্তার করিয়াছিল। এমন একদিন ছিল, যখন এ অঞ্চলের প্রতি গ্রামে, প্রতি ক্ষেত্রে, প্রতি অরণ্যে ঠগীহস্তে নিহত বালক যুবক বৃদ্ধ, এমন কি রমণীর পর্য্যন্ত মৃতদেহ পতিত থাকিতে দেখা যাইত। ইংরাজের শাসনে ঠগীদিগের সে ভীষণ অত্যাচার এখন একেবারেই বিলুপ্ত হইয়াছে।

 বেলা সাড়ে বারটা বাজিল। ট্রেন বহরমপুর ষ্টেশনে আসিয়া দাঁড়াইল। ঝুঁটা মতি বসানো এক জোড়া চটি জুতা ক্রয় করিয়া জিয়েন একটু গর্ব্বভরে তাহার নগ্নপদ আবৃত করিল!

 মালাবারের দুর্ঘটনার পর হইতেই জিয়েনের মতি ফিরিয়াছিল। বোম্বাই আসিবার পূর্ব্ব পর্য্যন্ত তাহার বিশ্বাস ছিল, এ বিকট ভ্রমণ সেই স্থানেই শেষ হইবে। কিন্তু ভারতবর্ষের চিত্তাকর্ষক দৃশ্যাবলী তাহার সুপ্ত পর্য্যটন-স্পৃহাকে পুনরায় জাগ্রত করিয়া দিল। তাহার যৌবনের উদ্দাম ভাব সকল পুনর্ব্বার আসিয়া দেখা দিল। সে এখন বিশ্বাস করিল যে তাহার প্রভুর বাজী ধরার কাহিনী সম্পূর্ণ সত্য। যেমন করিয়াই হউক ৮০ দিনের মধ্যে পৃথিবী ঘুরিয়া আসিতেই হইবে। সে জন্য ফিলিয়াস্ ফগ অপেক্ষা এখন তাহার চিন্তাই অধিক হইল। ঠিক সময় মত যাওয়া যাইবে ত? পথে ত কোন বিঘ্ন ঘটিবে না? কোন কারণে বিলম্ব হইবে না ত? বাজীটা জয় করিতে পারিলে কত গৌরব! পূর্ব্বদিন যে তাহার নির্ব্বুদ্ধিতার জন্যই সমস্ত নষ্ট হইতে বসিয়াছিল, সেই কথা স্মরণ করিয়া এখন তাহার হৃৎকম্প হইতে লাগিল। কোন ষ্টেশনে একটু অধিক-