সার ফ্রান্সিস্ ক্রমশঃ কুপিত হইতেছিলেন। তিনি রুক্ষস্বরে কহিলেন, “লাইন হয় নাই, অথচ বরাবর কলিকাতার টিকিট দেওয়া হ’ল কেন?”
“টিকিট ত বরাবরই দেওয়া হচ্ছে। সকলেরই এটা জানা আছে যে যাত্রীরা নিজেদের বন্দোবস্তে খোল্বি থেকে এলাহাবাদ যায়!”
গার্ডের কথা শুনিয়া সার ফান্সিসের ক্রোধ সীমা অতিক্রম করিল। যদি পারিত তাহা হইলে জিয়েন অবিলম্বে গার্ড সাহেবকে উত্তম মধ্যম লাগাইয়া দিত, কিন্তু ফিলিয়াস্ ফগের দিকে চাহিবার সাহসই তাহার ঘটিল না!
ফিলিয়াস্ ফগ কহিলেন, “সার ফ্রান্সিস্ চলুন। যেমন করেই হোক্ এলাহাবাদ ত যেতে হ’বে। দেখা যাক্ কোন উপায় হয় কি না।”
“এখন আর কি বন্দোবস্তই বা করা যাবে? এখানে যত বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা দেখ্ছি, আপনার বাজীর এখানেই শেষ হ’বে বোধ হচ্ছে!”
“ও কিছু নয়! ওর জন্য ভাব্বেন না! বিলম্ব যে হ’বে সেটা আগেই ভেবে রেখেছি।”
সার ফ্রান্সিস্ সবিস্ময়ে কহিলেন—“লাইন যে প্রস্তুত হয় নাই, সেটা কি তবে আগেই আপনার জানা ছিল?”
“না—তা ছিল না। তবে আমার যাত্রাপথে যে অনেক বাধাবিপত্তি এসে দাঁড়াতে পারে, সে সম্বন্ধে আমার কখনো সন্দেহ ছিল না।”
“কলিকাতার ট্রেণ ধরতে না পারলে যে এখন আপনার সর্ব্বস্ব যায়!”
“ট্রেণ ধরতে পার্ব বৈ কি। ২৩শে দ্বিপ্রহরের আগে কলিকাতা থেকে হংকংএর জাহাজ ছাড়বে না। আজ ত কেবল ২২শে। এখনো অনেক সময় আছে!”
এমন স্থির নিশ্চিন্ত উত্তরের আর প্রত্যুত্তর ছিল না! অন্যান্য যাত্রীরা