“তিন শ টাকা?”
“না।”
“চার শ?”
“না সাহেব! আপনারা অন্যত্র চেষ্টা দেখুন।” জিয়েনের মুখ বিবর্ণ হইল। সার ফ্রান্সিস্ বুঝিলেন পৃথ্বী ভ্রমণের এইখানেই শেষ।
ফিলিয়াস্ ফগ একান্ত অবিচলিত। তিনি কহিলেন, “আচ্ছা ভাড়া না দাও, বিক্রয় কর।”
“বিক্রয়?”
“হাঁ বিক্রয়। আমি ১৫০০০৲ টাকা দিব।”
অধিকারী মাথা নাড়িল। ভাবিল সাহেবটা, পাগল নাকি! ব্যাপার দেখিয়া সার ফ্রান্সিস্ মিঃ ফগকে অন্তরালে লইয়া গিয়া দর বাড়াইতে নিষেধ করিলেন। কহিলেন, “অনেক দাম হয়েছে। এর ঢের কমেই এদেশে হাতী পাওয়া যায়।”
প্রত্যুত্তরে ধীর ভাবে মিঃ ফগ বলিলেন—“উত্তেজনার বশবর্ত্তী হ’য়ে আমি কোন দিন কিছু করি না। ঠিক সময়ে এলাহাবাদ ত যেতেই হ’বে। তার উপরই তিন লাখ টাকার বাজী নির্ভর করছে! যেমন করেই হোক্ হাতীটা চাই-ই চাই।”
পরক্ষণেই তিনি অধিকারীর নিকটে আসিয়া কহিলেন, “পনর হাজারে হ’বে না? আচ্ছা, আঠার হাজার? বিশ হাজার? বাইশ হাজার? পঁচিশ হাজার? তা’ও না! আচ্ছা, ত্রিশ হাজার দিব!”
ত্রিশ হাজার! জিয়েনের রক্তাভ বদনমণ্ডল অবিলম্বে পাণ্ডুবর্ণ হইয়া উঠিল! সার ফ্রান্সিস্ হতবুদ্ধি হইয়া গেলেন! অধিকারী দেখিল আর অধিক প্রত্যাশা করা ভাল নহে—কি জানি যদি সাহেবের মন ঘুরিয়া যায়! সে হস্তীটী বিক্রয় করিতে সম্মত হইল।