অবিলম্বে একজন মাহুত সংগ্রহ করিয়া মিঃ ফগ তাঁহার ভৃত্য ও সার ফান্সিস্কে লইয়া এলাহাবাদ অভিমুখে যাত্রা করিলেন।
মাহুত একজন পার্শী। পথ-ঘাট তাহার ভালই জানা ছিল। দশ ক্রোশ পথ সংক্ষেপ করিবার জন্য সে বনের মধ্য দিয়া অগ্রসর হইল।
মিঃ ফগ এবং সার ফান্সিস্ দুইজনে দুইটী ছোট হাওদায় বসিলেন। জিয়েন দুই হাওদার মধ্যবর্ত্তী স্থানে আশ্রয় লইল। এইরূপে দুই ঘণ্টা অতীত হইলে পর সকলে বিশ্রামের জন্য হস্তী হইতে অবতরণ করিলেন। তখন সকলেই একান্ত শ্রান্ত। দুলিতে দুলিতে সকলেরই সর্ব্বাঙ্গ বেদনা জর্জ্জরিত হইয়াছে। কিন্তু মিঃ ফগের ভ্রূক্ষেপও ছিল না। সার ফ্রান্সিস্ অবাক হইয়া কহিলেন, “মিঃ ফগ যেন লোহায় গড়া।” প্রত্যুত্তরে জিয়েন কহিল, “শুধু লোহায় নয়—পেটা লোহায়!”
প্রাতর্ভোজন শেষ করিয়া মাহুতের নির্দ্দেশ মত সকলে আবার হস্তিপৃষ্ঠে উঠিলেন। হেলিতে হেলিতে দুলিতে দুলিতে মাহুতের ইঙ্গিতে সেই বিশালকায় কিউনি ধীরে ধীরে বনভূমি অতিক্রম করিয়া খর্জ্জুর ও তালকুঞ্জের পার্শ্ব দিয়া চলিতে লাগিল। তাহার পরই অতি বিস্তৃত শুষ্ক উদ্ঘাতিনী ভূমি। তাহার স্থানে স্থানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঝোপ এবং মধ্যে মধ্যে প্রকাণ্ড এক একটা প্রস্তর স্তূপ। এই প্রদেশের নাম বুন্দেলখণ্ড। একদল উন্মও হিন্দু তখন সেখানে বাস করিত। দেশীয় নৃপতিবর্গই বলিতে গেলে তখন বুন্দেলখণ্ডের সর্ব্বময় কর্ত্তা ছিলেন।
আরোগী সমেত দ্রুতগামী হস্তী দেখিয়া, কোন কোন স্থানে কতকগুলি লোক নিতান্ত ক্রুদ্ধ ভাবে অঙ্গভঙ্গী করিতে লাগিল, যেন নিকটে পাইলেই বিপদ ঘটাইবে! ইহারাই বুন্দেলখণ্ডের দস্যুসম্প্রদায়!
এই বৈচিত্র্যময় সুদীর্ঘ পথ অতিবাহিত করিতে করিতে জিয়েন ভাবিতে, লাগিল;―‘এলাহাবাদে পৌঁছিয়া মনিব মহাশর হাতীটার কি ব্যবস্থা