বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/৭২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
একাদশ পরিচ্ছেদ—বিন্ধ্যারণ্যে
৬৩

 মধ্যাহ্নসমাগমে পর্য্যটকগণ একটী নিবিড় বনমধ্যে প্রবেশ করিলেন। মাহুত লোকালয় ত্যাগ করিয়া বনপথেরই আশ্রয় লইয়াছিল। বৃক্ষের পর বৃক্ষ, তাহার পর আবার বৃক্ষ; বনপথ বৃক্ষের ছায়ায় সুশীতল। সুতরাং পথ চলিতে কষ্ট হইল না।

 এ কি, এখন কেবল অপরাহ্ণ ৪টা—এখনই কিউনি থামিল যে! সার্ ফ্রান্সিস্ মাহুতকে জিজ্ঞাসা করিলেন,—“থামলে যে, কি হয়েছে?”

 পার্শী ভীতচিত্তে কহিল, “কি জানি―ঠিক বুঝতে পারি না—কি যেন আস্‌ছে।”

 তখন দূরাগত মৃদু মৃদু অস্পষ্ট বাদ্যধ্বনি সেই নিবিড় বৃক্ষশ্রেণীর পত্রবহুল শাখা-প্রশাখার ভিতর দিয়া পত্রমর্ম্মরের সহিত মিশিয়া কর্ণে আসিয়া বাজিতে লাগিল। সে ধ্বনি ক্রমেই নিকটে আসিতে লাগিল—ক্রমেই স্পষ্ট হইতে স্পষ্টতর হইল।

 কিউনিকে একটী বৃক্ষকাণ্ডের সহিত বন্ধন করিয়া মাহুত অদূরবর্ত্তী ঘনসন্নিবিষ্ট ঝোপের অন্তরালে গমন করিল এবং অল্পক্ষণ পরেই প্রত্যাবর্ত্তন করিয়া ব্যস্তভাবে কহিল,—“ব্রাহ্মণদের একটা শোভাষাত্রা আস্‌ছে—আসুন আমরা পালাই পালাই!”

 মাহুত হস্তী লইয়া গহনবনমধ্যে প্রবেশ করিল।