দ্বাদশ পরিচ্ছেদ
সতী
ক ঢোল ও কণ্ঠনিনাদ সংমিলিত একটী পরস্পর-বিসংবাদী ধ্বনি ক্রমেই নিকটে আসিতে লাগিল। দেখিতে দেখিতে শোভাযাত্রার একাংশ নয়নপথের পথিক হইল। উষ্ণীষ ও সুদীর্ঘ আল্খাল্লায় সজ্জিত হইয়া পুরোহিতগণ সেই শোভাযাত্রার অগ্রভাগে চলিয়াছেন। বালক যুবক বুদ্ধ সমবেত কণ্ঠে এক করুণ শ্মশানসঙ্গীত গাহিতে গাহিতে পুরোহিতদিগকে ঘিরিয়া চলিয়াছে। নানাবিধ বাদ্য-যন্ত্রের শব্দে সে গীতধ্বনি মধ্যে মধ্যে অস্পষ্ট হইয়া উঠিতেছে।
ইহাদিগের পশ্চাতেই একখানি রথ। রথের সুবৃহৎ চক্র ও চক্রের পাখিগুলি সর্পানুকৃতিতে গঠিত। বহুমূল্য রশ্মিবল্গা প্রভৃতিতে সুসজ্জিত সবলকায় অশ্বগুলি ঘর্ঘর নিনাদে সেই রথ টানিয়া লইয়া যাইতেছে। রথের অধিষ্ঠাত্রী দেবী চতুর্ভুজা রক্তরাগরঞ্জিতা বিলোলরসনা। তাঁহার আলুলায়িত কুন্তল নিবিড় জলদজালের ন্যায় শোভ পাইতেছে। নরকঙ্কালমালিনী ভীমার কটিদেশে অগণিত নরবাহু বিলম্বিত! তাঁহার অধরপ্রান্তে রুধির ধারা ঝরিতেছে। এক জন বিরাট্ পুরুষের বক্ষের উপর দেবী খড়্গহস্তে দণ্ডায়মানা!
মূর্ত্তি দেখিয়া সার্ ফ্রান্সিস চিনিলেন। কহিলেন, “ইহাই হিন্দুদের কালীমূর্ত্তি—ইহাই তাদের একাধারে প্রেম ও মৃত্যুর প্রতিমা।”