বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ—সতী
৬৫

 জিয়েন বলিয়া উঠিল। “উঃ কি ভীষণ মূর্ত্তি! এ মূর্ত্তি মৃত্যুর বটে, কিন্তু প্রেমের কদাচ নহে!”

 মাহুতের ইঙ্গিতে সে নীরব হইল।

 মূর্ত্তিটী বেষ্টন করিয়া সন্ন্যাসিগণ তাণ্ডব নৃত্য করিতে লাগিল। উহারা সকলেই বিভূতিবিভূষিত, উহাদের অঙ্গ বহুক্ষতে পূর্ণ। সেই সকল ক্ষতমুখে বিন্দু বিন্দু রুধিরধারা ঝরিতেছিল।

 ইহাদিগের পরই চাক্‌চিক্যময় পরিচ্ছদে শোভিত কতকগুলি ব্রাহ্মণ দেখা দিলেন। তাঁহারা একটী রমণীকে সবলে টানিয়া আনিতেছিলেন। রমণী প্রতি পাদবিক্ষেপে ভূমিতলে লুটাইয়া পড়িতেছিলেন।

 আহা! কি সুন্দর নারীমূর্ত্তি! তাঁহার বর্ণ উজ্জল—এত গৌর যে দেখিলে মনে হয় যেন একটী ইউরোপীয় মহিলা। মস্তক কণ্ঠ কর্ণ বাহু প্রকোষ্ঠ মণিবন্ধ সমস্তই মণি-কাঞ্চনে বিভূষিত। তাঁহার পরিধানে সুবর্ণখচিত বসন, তদুপরি সুচিক্কণ মসলিনের দেহাবরণ,—তাহার ভিতর দিয়া অঙ্গের লাবণ্য ও দেহের গঠন ফুটিয়া বাহির হইতেছে।

 মহিলাটীর পশ্চাতে বিকটবদন রক্ষিগণ উলঙ্গকৃপাণ ও পিস্তল হস্তে একখানি শিবিকা মধ্যে মৃতদেহ বহন করিয়া আনিতেছে। শবটী একজন বৃদ্ধের। মূল্যবান্ রাজপরিচ্ছদে আচ্ছাদিত। উষ্ণীষ মুক্তাখচিত, অঙ্গাবরণ সুবর্ণ ও রেশমে রচিত, কটিবন্ধ কিংখাবের উপর হীরকগ্রথিত। শবপার্শ্বে আর্য্যনৃপতির সুন্দর সুন্দর অস্ত্র-শস্ত্র। সর্ব্ব পশ্চাতে কতকগুলি উন্মত্ত মনুষ্য বিকট চীৎকার করিতে করিতে অগ্রসর হইতেছে। গীতবাদ্য সমস্তই সেই চীৎকারে ডুবিয়া গিয়াছে।

 সার ফ্রান্সিস্ মাহুতের দিকে চাহিয়া কহিলেন, “ইহাই বুঝি সতী?”