মাহুত ওষ্ঠে অঙ্গুলি স্থাপন করিয়া সকলকে নীরব থাকিতে ইঙ্গিত করিল।
সেই জনসঙ্ঘ তখন কাননপথে ঘুরিতে ঘুরিতে ফিরিতে ফিরিতে গভীর অরণ্য মধ্যে প্রবেশ করিতেছিল। ধীরে ধীরে বাদ্যধ্বনি অস্পষ্ট হইয়া আসিতে লাগিল। তখনো মধ্যে মধ্যে বিকট চীৎকার শ্রুতিগোচর হইতেছিল। অবশেষে বনভূমি নীরব হইল।
ফিলিয়াস্ ফগ জিজ্ঞাসা করিলেন, “সতী কি?”
সার ফ্রান্সিস উত্তর করিলেন, “এ এক প্রকার নরবলি। তবে প্রভেদ এই যে, যে নিহত হয়, সে স্বেচ্ছায় প্রাণ দেয়। এখনই যে রমণীকে দেখলেন, কাল প্রত্যুষে অগ্নিকুণ্ডে তার প্রাণ যাবে।”
উত্তেজিত কণ্ঠে জিয়েন কহিল, “সর্ব্বনাশ! এরা রাক্ষস না কি?”
মিঃ ফগ কহিলেন, “ও শবটা কার?”
মাহুত কহিল “ওই রমণীর বৃদ্ধ স্বামীর। উনি এ অঞ্চলের এক জন স্বাধীন রাজা ছিলেন।”
“ইংরাজের আমলেও এই অসভ্য প্রথা জীবিত আছে?”
সার ফ্রান্সিস্ উত্তর করিলেন “ভারতের অধিকাংশ স্থানেই এ প্রথা আর প্রচলিত নাই। তবে বুন্দেলখণ্ড এখনো অসভ্যই আছে। এই অসভ্য প্রদেশে আমাদের শাসন প্রণালী এখনো সুপ্রতিষ্ঠিত হয় নাই। বিন্ধ্যগিরিশ্রেণীর উত্তরে যে বিপুল প্রদেশ অবস্থিত, তা’ এখনো লুণ্ঠন ও নরহত্যার জন্য প্রসিদ্ধ।”
জিয়েন নিতান্ত ক্ষুব্ধচিত্তে কঠিল “হায়, অসহায়া নারী! সে জীবন্ত দগ্ধ হ’বে।”
সার ফ্রান্সিস বলিলেন, “হাঁ জীবন্তই দগ্ধ হবে। তা’ না হ’লে তার কপালে আজীবন কত দুঃখ আছে তা’ কি তুমি জান? সমাজ