বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/৭৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ—সতী
৬৭

তার মাথা মুড়িয়ে দেবে―তাকে একঘরে করবে—তার ছায়া পর্য্যন্ত স্পর্শ করবে না। কিছুদিন আগে আমি যখন বোম্বাইতে ছিলাম, তখন একবার একটী বিধবা তার স্বামীর সঙ্গে পুড়ে’ মরবার জন্য গবরণরের অনুমতি চেয়েছিল। গবরণর অবশ্য সে অনুমতি দিলেন না। বিধবাটী নিতান্ত ক্ষুব্ধ হ’য়ে নগর ছেড়ে অন্যত্র গেল। সেখানে একজন রাজার সাহায্যে শেষে আগুনে ঝাঁপ দিলে।”

 মাহুত মাথা নাড়িয়া এ কথার সত্যতা স্বীকার করিয়া বলিল, “কাল যে সতী হবে সেটা কিন্তু স্বেচ্ছায় নয়!”

 “তুমি কেমন ক’রে জান্‌লে?”

 “বুন্দেলখণ্ডে এ কথা কে না জানে।”

 “কৈ স্ত্রীলোকটিকে ত কোন বাধা দিতে দেখলেম না।”

 “কেমন করে’ বাধা দিবে? আফিং আর ধোঁয়ায় তার কি আর এখন জ্ঞান আছে?”

 “রমণীকে ওরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?”

 “পিল্লাজির মন্দিরে। এখান থেকে সে মন্দির দু’মাইল দূরে। আজ রাত্রে সকলে সেখানে থাকবে। কাল সতী হবে।”

 “কখন্ হবে?”

 “খুব ভোরে।”

 মাহুত তাহার কথা শেষ করিয়া সেই হস্তীটা চালাইতে যাইবে অমনি মিঃ ফগ কহিলেন “রাখ—রাখ। সার ফান্সিস্, যদি আমরা স্ত্রীলোকটীকে রক্ষা করি—”

 বিস্মিত হইয়া সার ফান্সিস্ কহিলেন, “রক্ষা কর্‌বেন!”

 মিঃ ফগ কহিলেন, “এখনো আমার হাতে ১২ ঘণ্টা সময় আছে। ততক্ষণ পর্য্যন্ত চেষ্টা করে দেখতে পারি।”