ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ
জিয়েনের দুঃসাহস
পারটী যেমন গুরুতর, তেমনি দুঃসাহসিক—অসম্ভব বলিলেও বলা চলে। এ কার্য্যে লিপ্ত হইলে কে বলিবে যে মিঃ ফগ বিপক্ষের হস্তে জীবন দান করিবেন না, কে বলিবে যে অন্ততঃ চিরতরে বন্দী রহিবেন না। তাহা হইলেই ত তাঁহার সব ফুরাইল। যে জন্য এত শ্রম করিয়া তিনি এতদূর আসিয়াছেন, তাহা ব্যর্থ হইল! কিন্তু তাঁহার হৃদয় কোন বাধাই মানিল না। তিনি দেখিলেন এই কার্য্যে সার ফান্সিস্ একজন শক্তিশালী সহযোগী। জিয়েনও আজ্ঞা মাত্রেই যথোচিত সাহায্য করিবে। এক চিন্তা মাহুতের জন্য। সে যদি সাহায্য না করে? না করে না করিবে। কিন্তু সে যাহাতে বিপক্ষের দলে না যার তাহা করিতেই হইবে। সার ফ্রান্সিস্ তাই মাহুতকে স্পষ্টবাক্যে সে কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। মাহুত কহিল—
“হুজুর, আমিও পার্শী, আপনারা যাঁকে উদ্ধার করতে চান তিনিও পার্শী! আপনারা যা বলবেন, আমি তাই করবো।”
“উত্তম।”
মাহুত কহিতে লাগিল, “আপনারা মনে রাখবেন, আমাদের সম্মুখে মস্ত একটা বিপদ পাহাড়ের মত দাড়িয়ে রয়েছে! এ কার্য্যে শুধু যে আমাদের জীবনের আশঙ্কা আছে, তা নয়। যদি আমরা ধরা পড়ি, যন্ত্রণার একশেষ পেতে হবে!”