ফিলিয়াস্ ফগ বলিলেন, “সে সব বিপদ্ ঘাড়ে নিতে আমরা প্রস্তুত হয়েছি। আমার বিবেচনায় সন্ধ্যা পর্য্যন্ত অপেক্ষা করা যাক্। রাত্রে কার্য্যারম্ভ। মাহুত! রমণীটী কে তা’ তুমি জান?”
“জানি হুজুর! উনি বোম্বাইয়ের একজন প্রধান ধনাঢ্য বণিকের কন্যা। ভারতের রমণীকুলে একজন শ্রেষ্ঠ সুন্দরী। উনি রীতিমত ইংরাজি শিক্ষা পেয়েছেন। আচারে ব্যবহারে কথায় বার্ত্তায় ঠিক্ মেমসাহেবদের মত।”
সার ফ্রান্সিস্ কহিলেন, “বটে! মহিলাটীর নাম কি?”
“নাম আউদা। আউদা পিতৃমাতৃহীনা। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেই বৃদ্ধ রাজার সঙ্গে আজ তিন মাস হ’ল আউদার বিবাহ হয়েছিল। ভীষণ দুরদৃষ্টের কথা বুঝতে পেরে উনি পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ধরা পড়লেন। রাজার কতকগুলি আত্মীয় আছেন। আউদা জীবিত থাকলে তাঁদের সুবিধা হয় না বলে’ তাঁরা জোর ক’রে ওঁকে পুড়িয়ে মারছেন।”
মাহুতের কথা শুনিয়া মিঃ ফগ ও তাঁহার সঙ্গীর দৃঢ়সঙ্কল্প আরও সুদৃঢ় হইল। তাঁহারা মাহুতকে আদেশ দিলেন, “কোন রকম গোলমাল না করে’ পিল্লাজির মন্দিরের যত কাছে পার তত কাছে চল।”
কিউনি অর্দ্ধঘণ্টা মধ্যে তাঁহাদিগকে লইয়া মন্দির হইতে প্রায় অর্দ্ধ মাইল দূরে যাইয়া দাঁড়াইল। বৃক্ষশ্রেণীর অন্তরাল হইতে তখন সেই উন্মত্ত-কোলাহল শ্রুত হইতে লাগিল।
মাহুত কহিল, “রাণী আউদা নিশ্চয়ই মন্দিরমধ্যে বন্দিনী আছেন!”
সকলেই চিন্তা করিতে লাগিলেন কিরূপে তাঁহার উদ্ধার সাধন করিবেন। যখন পুরোহিত, রক্ষী, সন্ন্যাসী প্রভৃতি সকলেই মাদক সেবনে রজনীর মত চৈতন্যহীন হইবে, তখনই কি মন্দিরমধ্যে প্রবেশ করা