বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/৮০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ—জিয়েনের দুঃসাহস
৭১

সঙ্গত? না, প্রাচীর কাটিয়া, সেই গর্ভমুখে প্রবেশ করিলে সুবিধা হইবে? মন্দিরে না গেলে এ প্রশ্নের মীমাংসা অসম্ভব।

 তাঁহারা উদ্‌গ্রীব হ‍ইয়া রজনীর অপেক্ষায় বসিয়া রহিলেন। সন্ধ্যা ছয়টার সময় কাননভূমি অন্ধকার-সমাচ্ছন্ন হইয়া উঠিল। রক্ষীদিগকে অতিক্রম করিয়া মন্দিরসান্নিধ্যে গমন করিবার সেই একমাত্র সুসময় মনে করিয়া, মাহুত তাঁহাদিগকে পথ দেখাইয়া লইয়া চলিল। তাঁহারা ধীরে ধীরে,—অতি সাবধানে বৃক্ষাদিসমাচ্ছন্ন কাননপথে হামাগুড়ি দিয়া অগ্রসর হইলেন। অল্পদূর যাইতে না যাইতেই একটী ক্ষুদ্রশরীরা পার্ব্বত্যতরঙ্গিণীর নিকটবর্ত্তী হইলেন। মশালের আলোকে দেখিলেন, দূরে গন্ধ-তৈল-নিষিক্ত রাশি রাশি চন্দনকাষ্ঠে প্রস্তুত একটী চিতা সজ্জিত রহিয়াছে। সেই শ্মশান-শয্যায় বৃদ্ধ রাজার মৃতদেহ রক্ষিত হ‍ইয়াছে। রাণী আউদার সহিত উষা প্রভাতেই ভস্মে পরিণত হইবে। চিতা হইতে মন্দিরটী শত হস্তের অধিক দূরে ছিল না। মন্দিরের উচ্চচূড়া মন্দিরপার্শ্ববর্ত্তী বৃক্ষাদির মস্তকের উপর দিয়া সন্ধ্যার অন্ধকারে অস্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হইতেছিল।

 মাহুত অনুচ্চে কহিল, “আসুন।”

 সুদীর্ঘ ঘাসের অন্তরালে লুকাইয়া লুকাইয়া তাঁহারা তখন আরও সাবধানে একান্ত নিঃশব্দে অগ্রসর হইতে লাগিলেন। কেবল মুক্ত পবন বৃক্ষপত্রের ভিতর দিয়া সর্ সর্ করিতে করিতে বহিয়া যাইতেছিল।

 মাহুত থামিল। তাহার সম্মুখেই মুক্ত ক্ষেত্র। তথায় সিদ্ধিপানে বিভোর রক্ষীরা দলে দলে ভূমিশয্যা গ্রহণ করিয়াছিল। নিকটেই কতকগুলি মশাল কাঁপিয়া কাঁপিয়া জ্বলিতেছিল। মনে হইতেছিল যেন সমর প্রাঙ্গণে মৃত যোধৃগণ চিরনিদ্রায় অভিভূত। কেহ কেহ বা তখনো টলিতে টলিতে এদিক্-ওদিক্ ঘুরিয়া বেড়াইতেছিল।