মশালের আলোকে তাঁহারা বিস্ময়বিস্ফারিত নেত্রে দেখিলেন বলবান্ রাজপুতরক্ষিগণ উলঙ্গ তরবারিহস্তে পাদচারণ করিতে করিতে মন্দিরের বাহিরে প্রহরিকার্য্যে নিযুক্ত!
মাহুত আর অগ্রসর হইল না। সে বুঝিল বিনা বাধায় এ পথে অগ্রসর হওয়া অসম্ভব, সার ফ্রান্সিস্ এবং মিঃ ফগেরও সেইরূপই ধারণা হইল। তাঁহারা মৃদুস্বরে পরামর্শ করিতে লাগিলেন। সার ফ্রান্সিস্ কহিলেন, “আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা যাক্। এই ত কেবল ৮টা বেজেছে। বেশী রাত্রে প্রহরীরা নিদ্রা যাইতে পারে।”
তাঁহারা তখন একটী বৃক্ষতলে শয়ন করিয়া উত্তেজিত হৃদয়ে সুযোগের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন। সমর যেন আর যাইতে চাহে না। মাহুত মধ্যে মধ্যে এদিক্-ওদিক্ যাইয়া সন্ধান লইতে লাগিল। দেখিল, প্রহরীরা পূর্ব্ববৎ পাহারায় রত। মশালের আলোক পূর্ব্ববৎ সমুজ্জ্বল। মন্দিরের ভিতর হইতেও তখন জানালা দিয়া কম্পিত আলোকরেখা দেখা যাইতেছিল।
রজনী দ্বিপ্রহর হইল। তখনো অবস্থার কিছুমাত্র পরিবর্ত্তন ঘটিল না। প্রহরীরা তখনো বিনিদ্র নয়নে কর্ত্তব্য পালন করিতেছিল! বোধ হইল যেন তাহারা সমস্ত রাত্রিই এইরূপে কাটাইয়া দিবে। এ পথ পরিহারপূর্ব্বক মন্দিরের প্রাচীর কাটিয়া প্রবেশ করার চেষ্টাই তখন আবশ্যক বলিয়া বোধ হইল।
মাহুত পুনরায় অগ্রসর হইল। মিঃ ফগ, সার ফ্রান্সিস্ ও জিয়েন পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিলেন।
রজনী তমসাচ্ছন্ন। কৃষ্ণপক্ষের চন্দ্র তখনো আকাশপথে অধিকদূর উঠিতে পারে নাই। আকাশও মেঘলিপ্ত। বৃক্ষের মাথায় মাথায়, বৃক্ষশাখার গায়ে গায়ে বৃক্ষপত্রের ভিতরে ভিতরে পুঞ্জীভূত