বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/৮২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ—জিয়েনের দুঃসাহস
৭৩

অন্ধকার জমাট হইয়া প্রেতের মত দাঁড়াইয়া রহিয়াছে। তাহাতেই চারিদিকের অন্ধকার যেন আরো বাড়াইয়া তুলিয়াছে। তাঁহারা ভাবিলেন, আর কিছু চাহি না—কোন মতে মন্দির-প্রাচীরের সন্ধান পাইলেই হয়। প্রবেশ পথ থাকে ভাল; যদি না থাকে, করিয়া লইতে হইবে।

 অবিলম্বে মন্দিরের ইষ্টক প্রাচীর গায়ে ঠেকিল। সে দিকে কোন দ্বার বা গবাক্ষ ছিল না। মিঃ ফগ ও সার ফ্রান্সিস্ অন্য অস্ত্রের অভাবে পকেট-ছুরি দ্বারায় প্রাচীর কাটিতে লাগিলেন। মাহুত ও জিয়েন সেই বন্ধনমুক্ত ইষ্টকগুলি ধীরে ধীরে খুলিয়া লইতে লাগিল। এক দুই তিন―ইষ্টকগুলি অল্পায়াসেই খুলিয়া আসিতে লাগিল।

 অকস্মাৎ মন্দির মধ্যে কে যেন চীৎকার করিয়া উঠিল! সেই ধ্বনি মিলাইতে না মিলাইতেই বাহিরেও চীৎকার শুনিতে পাওয়া গেল। জিয়েন ও মাহুত নিবৃত্ত হইল। সে স্থানে আর অপেক্ষা করা সঙ্গত নহে মনে করিয়া, সার ফ্রান্সিস্ সকলকে লইয়া দূরে সরিয়া গেলেন। ভাবিলেন, যদি সুযোগ হয়, পুনরায় প্রত্যাবর্ত্তন করিবেন। কিন্তু সুযোগ আর ঘটিল না। রক্ষিগণ অবিলম্বে মন্দিরটী বেষ্টন করিয়া দাঁড়াইল!

 সার ফ্রান্সিস্ ক্রোধে মুষ্টিবদ্ধ করিলেন। জিয়েন অত্যন্ত উত্তেজিত হইয়া উঠিল। এমন কি পার্শী মাহুত পর্য্যন্ত অনেক চেষ্টায় আত্মসম্বরণ করিল। ফিলিয়াস্ ফগ তখনো অচঞ্চল!

 সার ফ্রান্সিস্ কহিলেন, “আর কেন? চলুন ফিরে যাওয়া যাক্।”

 মিঃ ফগ ধীরভাবে উত্তর করিলেন, “অত ব্যস্ত হবেন না। আমি যদি কাল দুপুরবেলাও এলাহাবাদ পৌঁছিতে পারি তা’ হলেই চলবে।”