বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৪
৮০ দিনে ভূ-প্রদক্ষিণ

 “এখানে থেকে আর লাভ কি? আর দু’ঘণ্টার মধ্যেই ত রজনী প্রভাত হ’বে। তারপর—”

 “শেষ মুহূর্ত্তেও আমাদের কোন একটা সুযোগ ঘটতে পারে।”

 সার ফ্রান্সিস্ এই অসীম ধৈর্য্য দেখিয়া বিস্মিত হইলেন। তিনি ভাবিলেন, শেষ মুহূর্ত্তে মিঃ ফগের কি সুযোগ ঘটবে? উনি কি তবে প্রজ্বলিত চিতার উপর লাফিয়ে পড়ে’ রাণী আউদাকে উদ্ধার করবেন?

 এরূপ চেষ্টা যে নিশ্চয়ই বিফল ও বিপজ্জনক হইবে তাহা সকলেই বুঝিয়াছিল। মিঃ ফগের মত ধীর স্থির ইংরেজ যে অবোধের এমন একটা কার্য্য করিবেন, ইহা সার ফ্রান্সিসের আদৌ বিশ্বাস হইল না। তথাপি এই ভীষণ দৃশ্যের যবনিকা পতন পর্য্যন্ত তিনি অপেক্ষা করিতে সম্মত হইলেন। মাহুত আবার পথ দেখাইয়া তাঁহাদিগকে কানন হইতে সেই মুক্ত ক্ষেত্রের সন্নিকটে লইয়া গেল। তাঁহারা তথায় গোপনে অবস্থিতি করিয়া সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পূর্ব্ব ব্যবস্থাগুলি দেখিতে লাগিলেন।

 মনে মনে একটা মতলব স্থির করিয়া জিয়েন সকলের অলক্ষিতে স্থানত্যাগ করিল। ভাবিল, কুসংস্কার ভারতবাসীর মজ্জাগত। সেই মজ্জাগত কুসংস্কার যদি রাণীকে উদ্ধার করিতে পারে, তবেই উদ্ধার সম্ভব—নতুবা এই শেষ। জিয়েন অন্ধকারের আশ্রয়ে পত্রবহুল বৃক্ষশাখার তলদেশ দিয়া অতি সাবধানে সেই শ্মশানশয্যার দিকে অগ্রসর হইতে লাগিল।

 ধীরে ধীরে রজনী শেষ হইয়া আসিল। ধীরে ধীরে ঊষার প্রথম আলোক-রেখা আকাশপ্রান্তে ক্ষীণ হাসির মত ফুটিয়া উঠিল। মন্দিরের চতুর্দ্দিকে তখনো অন্ধকাররাশি ঘনাইয়া রহিয়াছিল। এই