হইবেন, অমনি এক অভাবনীয় দৃশ্য দর্শনে একান্ত বিস্মিত হইরা মূকের ন্যায় দণ্ডায়মান রহিলেন!
সতীদাহকারী নরনারীগণ অতিমাত্র ভীত হইয়া চীৎকার করিয়া উঠিল এবং নিতান্ত শঙ্কিত চিত্তে পুনঃপুনঃ ভূমিষ্ট হইয়া প্রণাম করিতে করিতে দেখিল, বৃদ্ধ রাজা নবজীবন লাভ করিয়াছেন। যুবতী পত্নীকে বক্ষে ধারণ করিয়া সেই প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডমধ্যে স্থির ভাবে দণ্ডায়মান রহিয়াছেন! সন্ন্যাসিগণ, রক্ষিসমূহ, ব্রাহ্মণগণ ও পুরোহিতগণ ভয়ে তাহাদের পুনরুজ্জীবিত রাজার দিকে আর চাহিতে পারিল না। সাষ্টাঙ্গে প্রণত হইয়া ভূমির উপর পড়িয়া রহিল!
প্রজ্বলিত চিতা মুহূর্ত্তমধ্যে ত্যাগ করিয়া রাজার প্রেতাত্মা ফিলিয়াস্ ফগের নিকট আসিয়া কহিল, “আর দেরি নয়—চলুন্—চলুন্—”
এ কি! সংজ্ঞাহীনা আউদাকে স্কন্ধে লইয়া এ যে ফরাসীভৃত্য জিয়েন! সে চিতাধূমের আশ্রয়ে সেই কাষ্ঠস্তূপের উপর উঠিয়া মরণোন্মুখিনীকে রক্ষা করিয়াছিল!
* * * * * *
তাঁহারা আর কাল বিলম্ব না করিয়া তৎক্ষণাৎ ঘোর বনমধ্যে প্রবেশ করিলেন। ক্ষিপ্রচরণ কিউনি তাঁহাদিগকে লইয়া এলাহাবাদ অভিমুখে ছুটিল।
সেই স্তব্ধ অরণ্য অল্পকাল মধ্যেই কোলাহল-চঞ্চল হইয়া উঠিল। গুড়ুম্ গুড়ুম্ করিয়া বন্দুকের শব্দ হইতে লাগিল। রক্তরাঙ্গাগুলি সোঁ সোঁ করিয়া হস্তীর পার্শ্ব দিয়া চলিয়া যাইতে লাগিল। বৃক্ষ কাণ্ডে বা বৃক্ষশাখায় প্রহত হইয়া কতক বা ভূমিতলে পতিত হইল। সতীদাহকারিগণ ভ্রম বুঝিতে পরিয়া উন্মত্তের ন্যায় পশ্চাদ্ধাবন করিল বটে,