কিন্তু সেই ঘোর বনে হস্তী বা তাহার আরোহীদিগকে আর ধরিতে পারিল না।
* * * * * *
তাহার এই দুঃসাহসিক কৌশল ফলপ্রসূ হইল দেখিয়া জিয়েন হস্তিপৃষ্ঠে বসিয়া উচ্চরবে হাসিতেছিল। সার ফ্রান্সিস্ প্রীত হইয়া তাহার সহিত কর মর্দ্দন করিলেন। মিঃ ফগ বলিলেন, “বেশ করেছ।” তাঁহার ন্যায় গম্ভীর প্রকৃতির লোকের নিকট হইতে এই ক্ষুদ্র প্রশংসাবাক্যই যথেষ্ট পুরস্কার। জিয়েন সে পুরস্কার লাভ করিয়া কৃতার্থ হইল, এবং নম্রস্বরে কহিল, “এ কার্য্যের জন্য যাহা কিছু গৌরব, যাহা কিছু প্রশংসা, সে সমস্তই আমার প্রভুর।”
মৃত্যুর কবল হইতে রক্ষিতা সুন্দরী আউদা তখনো সংজ্ঞাহীনা। তাঁহার দিকে চাহিয়া সার ফান্সিস্ কহিলেন, “এঁর বিপদের এইখানেই শেষ নয়। যতদিন ইনি ভারতবর্ষে থাকবেন, ততদিন এঁর জীবন নিরাপদ নয়। ভারতের যে প্রদেশেই কেন থাকুন না, উন্মত্ত শত্রুরা এঁর সন্ধান করবেই করবে, আর সুযোগ পেলেই আবার পুড়িয়ে মারবে। ইংরাজের আইন, ইংরাজের পুলিশ কিছুতেই এঁকে রক্ষা করতে পারবে না। অল্পদিন আগেই এমন একটা ঘটনা হয়ে গেছে। ইনি যদি ভারতবর্ষের বাহিরে যেতে পারেন তবেই নিরাপদ্ হ’তে পারবেন।”
মিঃ ফগ বলিলেন, “এ কথার উত্তর একটু চিন্তা-সাপেক্ষ।”
বেলা ১০টার সময় তাঁহারা এলাহাবাদে আসিয়া পৌঁছিলেন। রাণী আউদার তখন অল্পে অল্পে জ্ঞানসঞ্চার হইতেছিল। তিনি ধীরে ধীরে নয়ন উন্মীলন করিলেন—মুদিত কমল যেন একটু একটু করিয়া বিকশিত হইল। তাঁহাকে সযত্নে বিশ্রামাগারে রাখিয়া মিঃ ফগ তাঁহার