জন্য কতকগুলি আবশ্যক দ্রব্যাদি ক্রয় করিবার জন্য জিয়েনকে বাজারে পাঠাইলেন।
এলাহাবাদ হইতে ট্রেণ ছাড়িবার সময় হইল। ফিলিয়াস্ ফগ পার্শী মাহুতকে তাহার পাওনা-গণ্ডা বুঝাইয়া দিয়া কহিলেন, “পার্শী, তুমি আমাদের যথেষ্ট উপকার করেছ। তুমি ভক্তের মত কর্ত্তব্য পালন করেছ। তার জন্য আমি তোমাকে হাতীটাই দিতে চাই। তুমি নিবে কি?”
মাহুতের নয়নদ্বয় উজ্জ্বল হইয়া উঠি। সে কৃতজ্ঞতাভরে কহিল, “হুজুর, আপনি আমাকে সাত রাজার ধন দিলেন।”
ট্রেণে উঠিতে উঠিতে মিঃ ফগ কহিলেন, “হাতীটা তুমি নিয়ে যাও কিন্তু এতেও আমি তোমার ঋণ শোধ করতে পারলেম না।”
ট্রেণ ছাড়িল। রাণী আউদার তখন সম্পূর্ণরূপে জ্ঞানসঞ্চার হইয়াছিল। আপন ভাগ্যবিবর্ত্তন-কাহিনী শ্রবণ করিয়া তিনি নয়নজলে হৃদয়ের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিলেন। কিন্তু পরক্ষণেই ভবিষ্যতের চিন্তা তাঁহাকে আকুল করিয়া তুলিল। তিনি শিহরিয়া উঠিলেন।
মিঃ ফগ তাঁহার হৃদয়ের ভাব বুঝিয়াছিলেন। কহিলেন, “আপনার ভয় নাই। আমি ভারতবর্ষ ছেড়ে হংকংএ যাচ্ছি। বাধা না থাকলে আপনাকেও সেখানে নিয়ে যেতে পারি।”
কৃতজ্ঞ হৃদয়ে আউদা কহিলেন, “হংকংএ আমার একজন ধনাঢ্য আত্মীয় বাণিজ্য করিতেন। বোধ হয় তিনি সেখানেই আছেন।”
“বেশ ভাল। আমরা তাঁকে খুঁজে বা’র করবো।”