মিঃ ফগ তিলমাত্র বিচলিত হইলেন না। তিনি জানিতেন পুলিশ দেশের আইনের প্রতিমূর্ত্তি। ইংরাজের চক্ষে আইন অতি পবিত্র। কিন্তু জিয়েন ফরাসী। সে ফরাসীর ন্যায় তর্কবিতর্ক করিতে যাইতেছিল, ফিলিয়াস্ ফগ তাহাকে নিরস্ত করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন―
“এই মহিলাটী কি আমাদের সঙ্গে আসতে পারেন?”
দারোগা কহিলেন, “অনায়াসে।”
তাঁহারা তখন একখানি অশ্বযানে উঠিয়া বসিলেন। গাড়ীখানি ঘুরিয়া ফিরিয়া কলিকাতার “কালো সহর” ছাড়াইয়া ইংরাজটোলার একটী গৃহের সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইল। দারোগা তাঁহার বন্দীদিগকে লইয়া একটী কক্ষমধ্যে প্রবেশ করিলেন এবং তথায় তাঁহাদিগকে রাখিয়া প্রত্যাবর্ত্তনকালে বলিয়া আসিলেন, “ম্যাজিষ্ট্রেট ওবাদিয়ার কাছে সাড়ে এগারটার সময় আপনাদের বিচার হবে।”
কক্ষদ্বার রুদ্ধ করিয়া দারোগা প্রস্থান করিলেন। রাণী আউদা নয়নজলে ভাসিতে ভাসিতে মিঃ ফগকে কহিলেন, “এই হতভাগিনীর জন্যই আপনাদের এ বিপদ। আমাকে রক্ষা করেই আপনারা বন্দী হলেন।”
মিঃ ফগ শান্তভাবে বুঝাইয়া বলিলেন, “ইংরাজের রাজত্বে সতীদাহ নিবারণ করলে কোন অপরাধই হয় না। বোধ হয় ভুলবশতঃ আর এক জনকে ধরতে পুলিশ আমাদেরই ধরেছে। তা’ যা’ হোক, আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। আমি যেমন করেই হোক্ আপনাকে হংকংএ নিয়ে যাব।”
প্রভুর কথা শুনিয়া জিয়েন কহিল, “জাহাজ যে বেলা ১টার সময় ছাড়বে!”
“তা’ ছাড়ুক না—তার আগেই আমরা জাহাজে যাব।” কথাটা এমন দৃঢ়তার সহিত বলা হইয়াছিল যে জিয়েন আপনার অজ্ঞাতে