অনুচ্চস্বরে বলিয়া উঠিল, “তবে আর ভাবনা কি! আমরা তা’ হ’লে ঠিক্ সময়েই জাহাজে যেতে পার্বো।” তাহার হৃদয় কিন্তু তখন শঙ্কায় কম্পিত হইতেছিল!
সাড়ে এগারটার সময় কক্ষের রুদ্ধদ্বার মুক্ত হইল। দারোগা আসিয়া তাঁহাদিগকে বিচারমণ্ডপে লইয়া গেলেন। ইহাই ডেপুটী ম্যাজিষ্ট্রেট ওবাদিয়ার বিচারালয়। বিচারশালায় তখন বহু ইংরাজ ও বাঙ্গালী সমবেত হইয়াছিল। প্রথম নম্বর মোকদ্দমার ডাক হইল।
পেশকার ডাকিলেন, “আসামী ফিলিয়াস্ ফগ হাজির?”
“হাজির।”
“জিয়েন?”
“হাঁ, হাজির।”
ডেপুটী সাহেব বলিলেন, “বেশ কথা। আজ দু’দিন থেকে আমি আপনাদের অপেক্ষায় আছি।”
জিয়েন অধীর হইয়া কহিল, “আমাদের অপরাধটা কি?”
“এখনই জান্তে পাবে।”
মিঃ ফগ কহিলেন, “ধর্ম্মাবতার, আমি ব্রিটিশ প্রজা। আমার—” বাধা দিয়া ম্যাজিষ্ট্রেট বলিলেন, “কেন—আপনাকে কি ব্রিটিশ প্রজার আইনতঃ প্রাপ্ত সকল সুযোগ দেওয়া হয় নি?
“হাঁ, তা’ হয়েছে বৈকি। তবে—”
“তবে আর কি। বাদীদের ডাক।”
হাকিমের আদেশমাত্রই এক জন চাপরাসী তিন জন পুরোহিতকে সম্মুখে আনিয়া উপস্থিত করিল। ইহারা তিন জনই বোম্বাই-বাসী।
জিয়েন বিড়্ বিড়্ করিয়া আপন মনে বলিতে লাগিল, “এ দেখছি শেষে তাই! এরাই ত আউদা রাণীকে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল!”