পেশকার অপরাধের বিবরণ পাঠ করিয়া আসামীদিগকে শুনাইতে লাগিলেন। তিনি বলিলেন, “হিন্দুর চক্ষে পবিত্র একটা মন্দিরকে অপবিত্র করিবার জন্য মিঃ ফগ ও তাঁহার ভৃত্যের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ হইয়াছে।”
বিচারক তখন ফিলিয়াস ফগের দিকে চাহিয়া কহিলেন, “আপনার অপরাধ কি তা’ শুনলেন?”
নিজের পকেট-ঘড়ির দিকে চাহিতে চাহিতে ফগ বলিলেন, “হাঁ ধর্ম্মাবতার, শুনেছি। আমি অপরাধ স্বীকার করছি।”
“আপনি স্বীকার করছেন?”
“হাঁ। পিল্লাজির মন্দিরে পুরোহিতরা যে কাণ্ড করেছেন, সে সম্বন্ধে তাঁরা কি বলিতে চান, আমি তারই জন্য বাস্ত হয়েছি।”
পুরোহিতেরা পরস্পর পরস্পরের মুখের দিকে চাহিতে লাগিলেন। মিঃ ফগ কোন্ কথার উল্লেখ করিতেছেন, তাহা তাঁহারা বুঝিতে পারিলেন না।
উদ্ধতভাবে জিয়েন কহিল, “ঠিক তাই। পিল্লাজির মন্দিরের কথাই জান্তে চাই। সেই মন্দির—যেখানে এঁরা এক জন নিরপরাধিনী রমণীকে জীবন্ত দগ্ধ করার আয়োজন ক’রেছিলেন!”
কথা শুনিয়া পুরোহিতেরা কিংকর্ত্তব্যবিমূঢ় হইলেন। তাঁহাদের বাক্যস্ফূর্ত্তি হইল না। বিচারক একান্ত বিস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কোন্ রমণী? কাকে পুড়িয়ে মারবার আয়োজন হয়েছিল? সে কোথায়?―বোম্বাই-এ না কি?”
জিয়েন কহিল, “হাঁ বোম্বাই―।”
“আমরা পিল্লাজির মন্দিরের কথা বল্ছি না। মালাবার পর্ব্বতের মন্দিরের কথা বল্ছি।”