তখন পেশকার কহিলেন, “অপরাধের প্রমাণস্বরূপ, সেই মন্দির-অপবিত্রকারীর জুতা এখানে আনা হয়েছে।”
জুতা দেখিয়াই জিয়েন বলিয়া উঠিল “ও যে আমার জুতা!”
বোম্বাই-এর রেলষ্টেশনে ফিক্স গোয়েন্দা যখন দেখিলেন ব্যাঙ্ক-দস্যু পলায়ন করিতেছে, তখন তিনি মালাবার শৈলের পুরোহিতদিগের সহিত পরামর্শ করিয়া তাহাদিগকে যথেষ্ট পুরস্কারের লোভ দেখাইয়া মন্দির অপবিত্র করিবার অভিযোগে মোকদ্দমা করিতে স্বীকার করাইলেন। পুরোহিতদিগের মধ্যে কেহ কেহ পরবর্ত্তী ট্রেণেই মিঃ ফগের অনুসরণ করিল।
ফিক্স গোয়েন্দা কলিকাতায় আসিয়া দেখিলেন মিঃ ফগ অনুপস্থিত। তখনই তিনি বুঝিলেন নোট-চোর ফাঁকি দিবার অভিপ্রায়ে মধ্যবর্ত্তী কোন স্থানে নামিয়াছে—দুই এক দিন মধ্যে নিশ্চয়ই আসিবে। গোয়েন্দা হাবড়া ষ্টেশনেই অপেক্ষা করিতে লাগিলেন। তথায় ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করিবার পর ২৫শে প্রভাতে যেই দেখিলেন ফগ ও তাঁহার ভৃত্য রেল গাড়ী হইতে অবতরণ করিতেছেন, অমনি তাঁহার ইঙ্গিতে কলিকাতার দারোগা তাঁহাদিগকে গ্রেপ্তার করিলেন। জিয়েন যদি ক্ষণেকের জন্যও আত্মচিন্তা বিস্তৃত হইরা বিচারগৃহের চতুর্দ্দিকে চাহিয়া দেখিত, তাহা হইলে দেখিতে পাইত সেই কক্ষের এক প্রান্তদেশে বসিয়া গোয়েন্দা ফিক্স বিপুল আগ্রহে এই মোকদ্দমা শুনিতেছিলেন। ব্যাঙ্কের নোটচোরকে ধরিবার সাধ তখনো তাঁহার ছিল। তিনি বিলাতের গ্রেপ্তারী পরোয়ানা কলিকাতায় পাইবার প্রত্যাশা করিতেছিলেন।
হাকিম পুনরায় কহিলেন, “তা হ’লে ঘটনাটা আসামী স্বীকার করছে?”
ফগ ধীরভাবে কহিলেন, “হাঁ।”
“ইংরাজ সরকার ভারতবর্ণের সকল ধর্ম্মই বিশেষভাবে রক্ষা করেন।