কি হয়। ফগ কি এতই বুদ্ধিহীন যে মুহূর্ত্তে এত টাকা নষ্ট করিবে!
ফিলিয়াস্ ফগ বাক্য ব্যয় না করিয়া ব্যাগ হইতে এক তাড়া নোট বাহির করিয়া পেশকারের টেবিলের উপর রাখিয়া কহিলেন, “টাকাটা আমি এখনই দাখিল করতে চাই।”
বিচারক কহিলেন, “আপনারা মুক্তি লাভ করলেই এ টাকা ফেরত পাবেন। এখনকার মত আপনারা জামিনে খালাস হলেন।”
গোয়েন্দা অবাক্! জিয়েনও অবাক্!
মিঃ ফগ গম্ভীর স্বরে কহিলেন, “চলে এস জিয়েন।”
জিয়েন সক্রোধে কহিল, “আমার জুতা জোড়াটা বোধ হয় ফেরত পাব। এ জুতার এক এক খানার দাম এখন ১৫ হাজার টাকা!”
তখন ১টা বাজিতে অর্দ্ধ ঘণ্টা মাত্র বিলম্ব ছিল। ফিলিয়াস্ ফগ একখানি গাড়ীতে উঠিয়া জেটীর দিকে ছুটিলেন।
ফিক্স গোয়েন্দা মনে মনে একাস্ত অপ্রতিভ হইলেন। কিন্তু কাল বিলম্ব না করিয়া ফগের অনুসরণ করিলেন। তখনো তাঁহার ভরসা ছিল ফগ নিশ্চয়ই সময় মত আসিয়া উপস্থিত হইবেন—অত টাকা কিছুতেই জলে ফেলিবেন না। কিন্তু যখন তিনি দেখিলেন, ফিলিয়াস্ ফগ তাঁহার সঙ্গিনী ও ভৃত্যকে লইয়া রেঙ্গুন জাহাজে উঠিলেন, তখন তিনি ক্ষোভে ও রোষে ভূমিতে পদাঘাত করিয়া কহিলেন—
“উঃ কি ভয়ানক লোক! ঠিক দস্যুর মতই অর্থের উপর মমতাহীন! এক মুহূর্ত্তে এত টাকা নষ্ট করলে! যদি আবশ্যক হয়, আমি ফিলিয়াসের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্য্যন্ত যাব—দেখি কি হয়! কিন্তু যেমন ভাবে খরচ করছে, তাতে যে পুরস্কারের জন্য বেশী কিছু অবশিষ্ট থাকবে এমন ত বোধ হয় না!”