লাগিল। সম্মুখে অনন্তবিস্তারি বনশ্রেণী—তাল, খর্জ্জুর, শেগুন প্রভৃতি বৃক্ষের সারি। সেই কাননের পশ্চাদ্ভাগে গিরিশিখরগুলি তরঙ্গের পর তরঙ্গের মত দেখাইতেছিল।
দেখিতে দেখিতে রেঙ্গুন পোত আন্দামান পশ্চাতে ফেলিয়া অগ্রসর হইতে লাগিল। গোয়েন্দা ফিক্স তখন কোথায় ছিলেন?
তিনি যখন দেখিলেন, শিকার সত্য সত্যই পলায়ন করিল, তখন অনন্যোপায় হইয়া বিলাতের পরোয়ানা হংকংএ পাঠাইবার উপদেশ দিয়া রেঙ্গুন জাহাজেই হংকং যাত্রা করিলেন। পাছে জিয়েনের সহিত জাহাজের উপর তাঁহার সাক্ষাৎ ঘটে, এই ভয়েই তিনি অতি সাবধানে থাকিতে লাগিলেন। তিনি দেখিলেন, জাহাজ যখন সিঙ্গাপুরে অধিকক্ষণ থাকিবে না, তখন হংকংই তাঁহার শেষ ভরসার স্থল। দস্যুকে হংকংএ ধরিতে না পারিলে আর ধরা যাইবে না। হংকং এর পরই ত চীন, জাপান এবং আমেরিকা। সাধারণ একখানা গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বাহিরে চলিবে না। এ সকল স্বাধীন দেশে দস্যুকে ধরিবার জন্য বিশেষ পরোয়ানা আনাইতেও অনেক সময় লাগিবে। ততদিন ফিলিয়াস্ ফগ কোথায় যে লুক্কায়িত হইবেন তাহা কে বলিতে পারে!
গোয়েন্দা ফিক্স বড় বিপদেই পড়িলেন। তিনি ভাবিতে লাগিলেন, ‘আমার যত কল কৌশল সবই ত প্রয়োগ করিয়াছিলাম। বোম্বাই এবং কলিকাতা দুই স্থানেই পরাজিত হইয়াছি। হংকংএ যদি দস্যুকে ধরিতে না পারি, তাহা হইলে আমার সুনাম পর্য্যন্ত কলঙ্ক-মলিন হইবে। যেমন করিয়াই হউক, হংকংএ উদ্দেশ্য সাধন করিতেই হইবে। জিয়েনকে কি সকল কথা প্রকাশ করিয়া বলিব? বলিলে সে হয় ত দস্যুর সঙ্গ ত্যাগ করিয়া আমাকেই সাহায্য করিবে।’
‘কি করি? বলি—কি বলিব না? এ যে বড় বিষম সমস্যা! যদি