বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:‘পার্টিসন’-প্রহেলিকা - চন্দ্রনাথ বসু (১৯০৬).pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৪
‘পার্টিসন’-প্রহেলিকা।

মনে করিলে তিনি অক্লেশে অনেক গ্রাম দেখিতে পারেন, অনেক প্রজার সহিত আলাপ পরিচয় করিতে পারেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, মাজিষ্ট্রেটের ন্যায় কমিশনর সাহেবেরও সেরূপ করিবার ইচ্ছা হয় না।

 লেপ্টেনাণ্ট গবর্ণর বাহাদুর ও সফরে যান। কিন্তু তাঁহার সফরের কায়দাকারখানা আরও ভয়ানক। প্রজাসাধারণকে তাঁহার নিকট প্রায়ই উপস্থিত হইতে দেওয়া হয় না, প্রধান ব্যক্তিদের মধ্যেও সকলে তাঁহার নিকট যাইবার অনুমতি পান না, প্রজার দুঃখ কষ্ট ছিন্ন বস্ত্র জীর্ণ কুটীর আর কর্ত্তাদের নিজেদের অকর্ম্ম কুকর্ম্মের নিদর্শন যাহাতে তাঁহার চোখে না পড়ে আগে হইতেই তজ্জন্য বিশেষ চেষ্টা ও বন্দোবস্ত করা হয়। মুনিসিপালিটি, ডিষ্ট্রীক্ট বোর্ড প্রভৃতি যাঁহারা তাঁহাকে অভিনন্দন পত্র দিবার অধিকার পান তাঁহারাও তাঁহাকে সকল কথা বলিতে পারেন না, কমিশনর এবং মাজিষ্ট্রেট তাঁহাদিগকে যে কথাগুলি বলিতে দেন কেবল সেই কথা গুলি বলিতে পারেন। তিনি রাজধানী হইতে নিকটে গেলেও এই ব্যবস্থা, দূরে গেলেও এই ব্যবস্থা। তিনি কখনও কোন পল্লীগ্রামে, প্রকৃত চাষার গ্রামে গিয়াছেন এমন কথা আমরা শুনি নাই। কিন্তু প্রজার সহিত ঘনিষ্টতা করিবার ইচ্ছা থাকিলে অনায়াসে যাইতে পারিতেন।

 আসল কথা এই, প্রজার সহিত ঘনিষ্টতা করিবার ব্যবস্থা ও সুবিধা প্রত্যেক বিভাগে এবং প্রত্যেক জেলাতেই আছে, কিন্তু ভারতের প্রজাকে চিনিবার বুঝিবার দয়া করিবার ভালবাসিবার প্রবৃত্তি ইংরাজ কর্ম্মচারীর নাই—গবর্ণর জেনেরল, গবর্ণর, লেপ্টেনণ্ট গবর্ণরদিগের ও নাই। যদি থাকিত, তাহা হইলে প্রজার সহিত রাজার, শাসিতের সহিত শাসকের ঘনিষ্টতা ঘটাইবার জন্য বঙ্গের পার্টিসনের কিছু মাত্র প্রয়োজন হইত না, জেলায় জেলায় বসিয়াই, বিভাগে বিভাগে থাকিয়াই ঘোর ঘনিষ্টতা ঘটান যাইতে পারিত। আরো বলি, ইংরাজকে আমরা চিনি, সমস্ত পৃথিবী