বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:‘পার্টিসন’-প্রহেলিকা - চন্দ্রনাথ বসু (১৯০৬).pdf/৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২
‘পার্টিসন’-প্রহেলিকা।

বলা যাইতে পারে না। কিন্তু পোলাণ্ডের যে প্রণালীর পার্টিসন হইয়াছিল যে বিভাগ ঠিক সে প্রণালীর নয় তাহাকে পার্টিসন বলিলে কেন ভুল হয় রাজপুরুষেরা অনুগ্রহ করিয়া তাহা বুঝাইয়া দিবেন কি? যাদব ও মাধব দুই সহোদর একান্নে একত্র বাস করে। দুই ভায়েরই স্ত্রী পুত্ত্র কন্যা পুত্রবধূ পৌত্র পৌত্রী আছে। জ্যেষ্ঠ বলিয়া যাদব এই বৃহৎ পরিবারের কর্ত্তা—সমস্ত পরিবার তাঁহার কর্ত্তৃত্বাধীন। দাস দাসী তিনিই নিযুক্ত করেন, আবশ্যক হইলে তিনিই বরখাস্ত করেন। সংসারের একটী মাত্র তহবিল—তাঁহারই হাতে থাকে। খরচপত্রের ব্যবস্থা তিনিই করেন। ক্রমে পরিবার আরো বড় হইল, এক বাড়ীতে আর ধরে না, বৃদ্ধ যাদব ও অত বড় পরিবারের অধ্যক্ষতায় অসমর্থ হইয়া পড়িলেন। তখন দুই ভাই সংসার ও সম্পত্তি বিভক্ত করা বিহিত বিবেচনা করিলেন। দুইটী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি বিভাগ করিয়া দিলেন। বাগান পুষ্করিণী চিহ্নিত করিয়া দেওয়া হইল, জমিজিরাতের সীমা নির্দ্দিষ্ট হইল, কোথাও দেওয়াল উঠিল, কোথাও পর্দ্দা পড়িল, কোথাও পিল্পে বসিল। এক ভাই পৈতৃক বাড়ী পাইলেন, আর এক ভাই বাড়ী নির্ম্মাণ করিয়া লইবার জন্য টাকা পাইলেন। তখন একটী বাড়ীর পরিবর্ত্তে দুইটী বাড়ী হইল, একজন কর্ত্তার পরিবর্ত্তে দুইজন কর্ত্তা হইল, একটী তহবিলের পরিবর্ত্তে দুইটী তহবিল হইল, এক প্রস্ত দাসদাসী কর্ম্মচারীর পরিবর্ত্তে দুই প্রস্ত দাসদাসী কর্ম্মচারী হইল—ইত্যাদি ইত্যাদি। ইহাকে চলিত কথাতেও পার্টিসন বলে, আইন আদালতের ভাষাতেও পার্টিসন বলে। বঙ্গ সম্বন্ধে ঠিক সেই রূপই করা হইয়াছে— সীমাসর্হদ্দ নির্দ্দিষ্ট করিয়া উহাকে দুইভাগে বিভক্ত করা হইয়াছে, দুইভাগের দুইজন কর্ত্তা বা ছোট লাট হইয়াছেন, দুইভাগের কর্ম্মচারী প্রভৃতি দুইভাগের ছোটলাট স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র ভাবে নিযুক্ত করিতেছেন, দুইভাগের দুইটী স্বতন্ত্র তহবিল হইয়াছে, দুইভাগের খরচপত্র স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র ভাবে করা হই-