বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:‘পার্টিসন’-প্রহেলিকা - চন্দ্রনাথ বসু (১৯০৬).pdf/৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪
‘পার্টিসন’-প্রহেলিকা।

আর কিছুই করিতে হয় না, কেবল থানা, কনষ্টেবল, দারোগা, ইনস্পেক্টর, কেরাণীর সংখ্যা বাড়িলেই হয়। এ সকল বন্দোবস্ত করিবার জন্য উপযুক্ত লোক পুলীস বিভাগে চিরকালই আছে এবং এবারকার পুলীস সংস্কারে আরো বাড়িয়াছে। সুতরাং লোক সংখ্যা বাড়িলে পুলীস বিভাগের জন্য প্রধান শাসনকর্ত্তার ঝঞ্ঝাট বাড়িবার কথা নয়। তাহার পর আদালতের কথা। লোকসংখ্যা বাড়িলে সকল প্রকার মোকদ্দমা বাড়ে বটে। কিন্তু সেজন্যও প্রধানশাসনকর্ত্তার কাজ বাড়ে না বলিলেই হয়, বাড়ে কেবল বিচারক এবং আদালতের সংখ্যা। কিন্তু সে সব বন্দোবস্ত হাইকোর্টই প্রধানতঃ করেন। ইহাও স্বীকার করি যে লোকসংখ্যা বাড়িলে ছাত্র সংখ্যা বাড়ে, সুতরাং ইস্কুলের সংখ্যার বৃদ্ধি বশতঃ শিক্ষাবিভাগের কাজ ও বাড়ে। কিন্তু সেজন্য প্রধান শাসনকর্ত্তার ঝঞ্ঝাট বাড়ে না। কারণ শিক্ষা বিভাগের অধিকাংশ কাজ অতি সহজ আর কর্ম্মচারীর সংখ্যাও কম নয়। এইরূপ, গবর্ণমেণ্টের সমস্ত বিভাগের গঠন প্রণালীর প্রতি দৃষ্টি করিলে বুঝা যায় যে লোকসংখ্যার বৃদ্ধি বা আধিক্য বশতঃ মোটের উপর প্রধান শাসনকর্ত্তার ঝঞ্ঝাট বাড়িবার কথা নয়, এবং যদি কিছু ঝঞ্ঝাট বাড়ে, তজ্জন্য পার্টিসনের প্রয়োজন হয় না, যোগ্যতম ব্যক্তিদিগকে সেক্রেটরী নিযুক্ত করিলে এবং সেক্রেটরীর সংখ্যা কিছু বাড়াইলেই যথেষ্ট হয়। ফলকথা, ভারতে বৃটিশ শাসনপ্রণালী লোকসংখ্যামূলক প্রণালী নয়। যাহাকে patriarchal government বলে তাহাতেই লোকসংখ্যার প্রতি দৃষ্টির প্রয়োজন, লোকসংখ্যার আধিক্য হইলে তাহার অনিষ্ট হয়, তাহা ভাল চলে না। ওরূপ গবর্ণমেণ্ট বহু পূর্ব্বকালে ছিল, যেমন প্রাচীন ইহুদিদিগের মধ্যে, এখন নাই। ভারতে ইংরাজের গবর্ণমেণ্ট patriarchal government নয়। তথাপি যখন বলা যাইতেছে যে লোকসংখ্যার আধিক্য বশতঃ বঙ্গের শাসন একজন শাসনকর্ত্তার পক্ষে অসাধ্য হইয়া উঠিয়াছিল—তখন