বোধ হয় বুঝিতে হইবে যে শাসনের প্রকৃতি আর পূর্ব্ববৎ নাই, autocratic হইয়া পড়িতেছে। ইহার একটু প্রমাণও পাওয়া গিয়াছে। বিলাতের যে সভার উল্লেখ করিয়াছি তাহাতে আমাদের ভূতপূর্ব্ব ছোটলাট আত্মপ্রাধান্যগর্ব্বিত সারচার্লস্ ইলিয়ট পার্টিসনের সমর্থন করিয়া বলিয়াছিলেন যে বঙ্গ এত বৃহৎ ও লোকসঙ্কুল স্থান যে তিনি উহার শাসন কার্য্যের অর্দ্ধেকের অধিক সম্পন্ন করিতে পারেন নাই। কিন্তু তিনি যেমন অতি সামান্য সামান্য, অতি অনাবশ্যক, অসংখ্য খুটিনাটি এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় পর্য্যন্ত নিজে দেখা ছোটলাটত্বের অবশ্য কর্ত্তব্য কার্য্য মনে করিতেন, তাহাতে তিনি যে তাঁহার অর্দ্ধেক কার্য্যও সম্পন্ন করিয়া গিয়াছিলেন ইহাই আশ্চর্য্য। আমাদের ঘোর সন্দেহ, বঙ্গের লোকসংখ্যার আধিক্যের জন্য উহার পার্টিসন করা হয় নাই; পূর্ব্বের আইন-সুবিচার-এবং-সুবিবেচনা মূলক শাসন প্রণালী ছাড়িয়া দিয়া autocratic প্রণালীতে শাসন করিবার অভিপ্রায়ে উহার পার্টিসন করা হইল।
(২) গবর্ণমেণ্টের মনের ভাব যেন এইরূপ যে বঙ্গরাজ্যের বিস্তার বড় বেশী বলিয়া বঙ্গের রাজধানী হইতে দূরস্থিত স্থান সকল সুশাসিত হইতে পারে না। আমরা কিন্তু এইরূপ বুঝি যে গবর্ণমেণ্টের লোকসংখ্যার কথাটারও যেমন বিশেষ কোন অর্থ নাই এই দূরত্বের কথাটারও তেমনই বিশেষ কোন অর্থ নাই। বঙ্গের যেখানেই কোন একটা ঘটনা ঘটুক উহার তদন্তাদির প্রণালী সর্ব্বত্রই এক—তদন্তে প্রথমে চৌকিদার, তাহার পর পুলীস, তাহার পর মাজিষ্ট্রেট, তাহার পর কমিশনর, সর্ব্বশেষে গবর্ণমেণ্ট। ঘটনা বঙ্গের ছোটলাটের প্রাসাদ হইতে দুই শত ক্রোশ দূরে ঘটিলে এই সুদীর্ঘ জটিল প্রণালীতে উহার তদন্ত হইবে আর দুই ক্রোশ দূরে হইলে একটা সংক্ষিপ্ত সরল প্রণালীতে উহার তদন্ত হইবে এরূপ নহে; আর দূরের তদন্তটা দূরের বলিয়া যে বিলম্বে হইবে এবং