পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/১০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অতুলপ্রসাদ সেন আন্দোলনে যােগ দেন। এম. এ. পাশ করার পর কিছুকাল তিনি রংপুরে জাতীয় বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরে তিনি প্রাদেশিক কংগ্রেস এবং অন্যান্য রাজনৈতিক আন্দোলনের সহিত যুক্ত থাকিয়াও স্বাধীন বিচারবােধ দ্বারাই চালিত হইয়াছেন। ১৯৪৭ খ্ৰীষ্টাব্দে ভারতবিভাগের সময় ‘ব্যাগে ট্রাইবুনাল’-এ পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে বক্তব্য প্রস্তুত করিবার ভার অতুলচন্দ্রের উপরেই পড়িয়াছিল। শােনা যায়, তাঁহার রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপের জন্যই ইংরেজ সরকার শেষ পর্যন্ত তাহাকে হাইকোর্টের জজ নিযুক্ত করে নাই। | অতুলচন্দ্রের বাংলা সাহিত্যসেবা খুব বিস্তৃত না হইলেও অতিশয় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্রে প্রবন্ধকাররূপে তাহার আবির্ভাব ঘটে। প্রমথ চৌধুরীর তিনি একজন অন্তরঙ্গ শিষ্য ও বন্ধু ছিলেন। ভারতীয় রসতত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যাতারূপে পরবর্তী কালে সুপরিচিত হইলেও সমাজ শিক্ষা ইতিহাস প্রভৃতি বিচিত্র বিষয়ে তিনি প্রবন্ধ রচনা করিয়াছিলেন। ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে ( ১৯২৭ খ্রী) প্রকাশিত শিক্ষা ও সভ্যতা অতুলচন্দ্রের এগারােটি | প্রবন্ধের প্রথম সংগ্রহ। অতঃপর ‘কাব্যজিজ্ঞাসা’ (১৩৩৫), ‘নদীপথে ( ১৩৪৪ ), ‘জমির মালিক’ (১৩৫১ ), সমাজ ও বিবাহ’ (১৩৫৩), ‘ইতিহাসের মুক্তি ( ১৩৬৪ ) প্রকাশিত হইয়াছে। শেষােক্ত বইখানি কলিকাতা | বিশ্ববিদ্যালয়ে অধরচন্দ্ৰ মুখার্জি বক্তৃতা রূপে লিখিত। এতদ্ব্যতীত ‘পত্রাবলীধর্ম ও বিজ্ঞান’ নামে আর একখানি | গ্রন্থ দিলীপকুমার রায়, বীরবল এবং অতুলচন্দ্র গুপ্তের | যুক্তনামে প্রকাশিত হয়। এখানে উল্লেখযােগ্য, ১৯১৮ | খ্রীষ্টাব্দে ‘ট্রেডিং উইথ দি এনিমি’ (Trading with | the Enemy) নামে একটি গবেষণা নিবন্ধ রচনা করিয়া | তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে ‘অনথনাথ দেব পুরস্কার লাভ করেন। পরে এই বিশ্ববিদ্যালয় তাহাকে ডি. এল, উপাধিতে ভূষিত করেন (১৯৫৭ খ্রী)। | অতুলচন্দ্রের রচনার পরিমাণ অপেক্ষাকৃত স্বল্প হইলেও বৈদগ্ধ্য ও দুর্লভ অন্তদৃষ্টির সমন্বয়ে বাংলা মনন-সাহিত্যের উৎকৃষ্ট সম্পদ বলিয়া সেইগুলি সমাদৃত। ভবতােষ দত্ত | অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪ খ্ৰী) জন্ম ২০ অক্টোবর ১৮৭১, ঢাকা ; মৃত্যু ২৬ আগস্ট ১৯৩৪, লক্ষ্ণৌ। পিতা রামপ্রসাদ সেনের আদি নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার মগর গ্রামে। তিনি যৌবনে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন। ঢাকায় চিকিৎসকরূপে ইহার খ্যাতি হইয়াছিল। অতুল প্রসাদ