পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/১০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অথর্ববেদ | মন্ত্রের বিনিয়ােগ হয় ভৈষজ্যাদি শান্ত কর্মে আর আঙ্গিরস মন্ত্রের প্রয়ােগ হয় অভিচারাদি ঘাের কর্মে। দুর্গামােহন ভট্টাচার্য অথর্ববেদ অথবা ঋষির নামে প্রসিদ্ধ অথর্ববেদকে আঙ্গি| রস বেদ, অথর্বাঙ্গিরস বেদ এবং ভূঙ্গিরো বেদও বলা হয়। অথবা অঙ্গিরাঃ ও ভৃগু ছিলেন বেদমন্ত্রের প্রখ্যাত দ্রষ্টা এবং বিশিষ্ট সংকলয়িতা। ইহাদের নামেই চতুর্থ বেদের পরিচয়। অপর তিন বেদের পরিচয় অন্যরূপ। ঋক্, | যজুঃ ও সাম-- পদ্য, গদ্য ও গীতি এই ত্রিবিধ মন্ত্রের মধ্যে | যেরূপ মন্ত্রের সংকলন যে বেদে অধিক, তদনুসারে সেই বেদের নামকরণ হইয়াছিল ঋগবেদ, যজুর্বেদ ও সামবেদ। চতুর্থ বেদে তিন প্রকার মন্ত্রই স্থান পাইয়াছে। সুতরাং মন্ত্রপ্রকৃতির উল্লেখ করিয়া এই বেদের স্বরূপ প্রকাশ করা | সম্ভবপর হয় নাই। সেইজন্য ইহা মিন্ত্রসংকলয়িতাদের নামে পরিচিত হইয়া গিয়াছে। | নানা গ্রন্থে অথর্ববেদের বহু শাখার নাম পাওয়া যায়। পৈপ্পলাদ, তৌদ, মৌদ, শৌনক, জাজল, জলদ, ব্ৰহ্মবেদ, | দেবদর্শ ও চারণবৈদ্য এই নয়টি শাখা অধিক প্রসিদ্ধ। বৈদিক চরণপর্ষদের প্রধান প্রধান ঋষিদের নাম অনুসারে একই অথর্ববেদের ভিন্ন ভিন্ন শাখার প্রবর্তন হইয়াছিল এবং বিভিন্ন শাখার মন্ত্রসংহিতা ও কল্পসূত্রের মধ্যে অল্পবিস্তর পাঠভেদ ও প্রয়ােগভেদের সৃষ্টি হইয়াছিল। অথর্ববেদের বহু শাখা কালক্রমে বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে। কিন্তু নানাগ্রন্থের উক্তি ও উদ্ধৃতি উহাদের পুরাকালিক অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয়। শৌনক-শাখার মন্ত্রসংহিতা ভাষ্যসহ প্রকাশিত হইয়াছে। পৈপ্পলাদসংহিতারও মূল গ্রন্থ পাওয়া গিয়াছে। শৌনকসংহিতা এবং শৌনক-শাখার গােপথব্রাহ্মণ, বৈতানসূত্র, কৌশিকসূত্র, অথর্বপরিশিষ্ট ও পদ্ধতিগ্রন্থ হইতে শৌনকীয় অথর্ববেদের বিষয়বস্তুর বিবরণ পাওয়া যায়। মূল বিষয়ে শৌনক ও পৈপ্পলাদ শাখার লক্ষ্য অভিন্ন। | বিশকাণ্ডে বিভক্ত শৌনক সংহিতার সাতশত ত্রিশটি সূক্তে প্রায় ছয় হাজার মন্ত্র সংকলিত আছে। অন্তিম কাণ্ডের অধিকাংশ মন্ত্র ঋগবেদেও পাওয়া যায়। অপর কাণ্ডগুলিরও অনেক মন্ত্র ঋগবেদ ও যজুর্বেদের সঙ্গে এক। সমগ্র মন্ত্রসংখ্যার সাত ভাগের এক ভাগ এইরূপ। পঞ্চদশ ও যােড়শ কাণ্ড গদ্যময়। অথবমন্ত্রের প্রাচীন অনুক্রমণী পঞ্চপটলিকায় এবং অথর্বপ্রাতিশাখ্যে উনবিংশ ও বিংশ কাণ্ডের কোনও মন্ত্রের উদ্ধৃতি না থাকায় এই দুইটি কাণ্ড মূল গ্রন্থের খিল বা পরিশিষ্ট রূপে গণ্য হইয়া থাকে ।