পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/১০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অথর্ববেদ ঋগবেদের পরে অথর্ববেদ সংকলিত হইয়াছিল। কিন্তু। সংকলিত মন্ত্রগুলি যে সবই ঋগবেদ অপেক্ষা অর্বাচীন এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না। এই বিষয়ে ভাষার তারতম্যগত প্রমাণ পৌর্বাপর্যনির্ণয়ের পক্ষে যথেষ্ট বলিয়া স্বীকৃত হয় না। | অথর্ববেদের বহু মন্ত্রেরই মুখ্য বিনিয়োেগ গৃহকর্মে, শ্রৌতযজ্ঞে উপযােগিতা নাই বলিলেই চলে। এই বেদের স্বার্থকেন্দ্রিক মন্ত্রগুলির মধ্য দিয়া সাধারণ মানুষের সহজাত আশা ও আকাঙ্ক্ষা পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ পাইয়াছে। ‘শান্ত’ ও ‘ঘের’ এই দুই প্রকার কর্মসিদ্ধির উদ্দেশ্যে দেবতা ওষধি প্রভৃতির আবাহন ও প্রসাদন অথবমন্ত্রের লক্ষ্য। অর্থলাভ, লােগনাশ, রাষ্ট্রিক সমৃদ্ধি, পারিবারিক সম্প্রীতি, ভূতনিবারণ প্রভৃতি শান্তকর্ম । এইগুলি শান্তিকপৌষ্টিকের অন্তর্গত আভদয়িক কৃত্য। শত্রুবিনাশ, পররাষ্ট্রের উংসাদন, প্রতিপক্ষপীড়ন, বশীকরণ, ভূতাবেশন প্রভৃতি ঘাের কর্ম। এই গুলি যাতুবিদ্যার অন্তর্গত আভিচারিক কৃত্য। কৃত্যাপ্রতিহরণ’ নামে আরও এক শ্রেণীর মন্ত্র পাওয়া যায়। উহার বিনিয়োেগ হয় শত্ৰুকৃত অভিচারের প্রতিষেধকল্পে। আঙ্গিরসকল্পে’ দশ প্রকার অথর্বণিক কর্মের উল্লেখ আছে- শান্তিক, পৌষ্টিক, বশীকরণ, স্তম্ভন, মােহন, দ্বেষণ, উচ্চাটন, মারণ, আকর্ষণ ও বিদ্রাবণ। আথর্বণিক দশকর্মের সঙ্গে তন্ত্রোক্ত ষটুকর্মের বেশ মিল দেখা যায়। এই সকল আভদয়িক ও আভিচারিক কর্মের উপযােগী মন্ত্র অন্য বেদে অল্প, অথর্ববেদে অধিক। ইহা ছাড়া বিবাহ, গর্ভাধান, পিতৃমেধ প্রভৃতি নিত্যানুষ্ঠেয় কর্মের মন্ত্রও এই বেদে আছে। সাধারণ লােকের প্রয়ােজনে সংকলিত অথর্ববেদ নানাদিক হইতে তাৎপর্যপূর্ণ। এই বেদের ভূমিসূক্তে (১২.১) বৈদিক ঋষি বসুন্ধরাকে সর্বপ্রথম জননী বলিয়া অভিহিত করিয়াছিলেন— ‘মাতা ভূমিঃ পুত্রো অহং পৃথিব্যা’। এই বেদের আয়ুষ্য মন্ত্র ও ভৈষজ্য মন্ত্রে ভারতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান প্রথম রূপ পরিগ্রহ করিয়াছিল। এই প্রসঙ্গে যে নানারূপ ওষধির নাম এবং বিভিন্ন শারীর সংস্থানের উল্লেখ আছে তাহাই আয়ুর্বেদশাস্ত্রের ভিত্তিভূমি বলিয়া স্বীকৃত। অথর্ববেদের ‘রাজকর্ম পর্যায়ের মন্ত্র প্রকরণে রাজার নির্বাচন, অভিষেক। ও গুণাবলী এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সম্পর্কে কিছু গভীরার্থ। উক্তি পরিলক্ষিত হয়। এইরূপে এই বেদের বিভিন্ন প্রকরণের মন্ত্ৰসমূহ লৌকিক ও ঐহিক বিষয়ে বেদাধ্যায়ীর আগ্রহ সৃষ্টি করিয়া থাকে। অপর দিকে অথর্ববেদে আধ্যাত্মিক মন্ত্রের সংখ্যাও কম। নয়। এক পরম তত্ত্বেই যে বিশ্বের প্রতিষ্ঠা’ তাহা এই